প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে কি এবার বড়সড় ওলটপালট হতে চলেছে? বুধবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখলেন হায়দরাবাদের সাংসদ তথা মিম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েসি। আর তাঁর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ভরতপুরের বিদ্রোহী নেতা হুমায়ুন কবীর। রাজনীতির ময়দানে এই দুই নেতার হঠাৎ এই সমীকরণ কি নবান্নের অলিন্দে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে? রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের একক ভোটব্যাঙ্কে এবার বড়সড় ফাটল ধরার সঙ্কেত দিচ্ছে এই নতুন জোট।
দীর্ঘদিন ধরেই মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। বিশেষ করে উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি দলত্যাগের পর নিজের রাজনৈতিক দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP) গঠন করেছেন। আর আজ সেই লড়াইকে আরও জোরালো করতে তিনি পাশে পেলেন আসাদউদ্দিন ওয়েসিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, তৃণমূলের গতানুগতিক রাজনীতির পালটা হিসেবেই হুমায়ুন কবীর এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছেন।
সূত্রের খবর, আজ বিকেলেই কলকাতায় হুমায়ুন কবীর এবং আসাদউদ্দিন ওয়েসি এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁদের জোটের লক্ষ্য স্পষ্ট করবেন। জানা গিয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রায় ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে হুমায়ুন কবীরের দল। এই জোটের অংশ হিসেবে মিম (AIMIM) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনে লড়াই করতে পারে। বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলোতে এই জোট তৃণমূলের ভোট কাটলে তার সরাসরি প্রভাব শাসকদলের আসন সংখ্যার ওপর পড়বে।
সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুর। সেখানে জোটের তরফে পুনম বেগমকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় লড়াইয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর নিজে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নওদা—এই দুটি আসন থেকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত সংখ্যালঘু ভোটকে নিজেদের ‘নিশ্চিত’ সম্পদ বলে মনে করত তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ওয়েসি এবং হুমায়ুন কবীরের এই মেলবন্ধন সেই সমীকরণকে আমূল বদলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুসলিম ভোট ভাগ হয়ে গেলে তার সরাসরি সুবিধা বিরোধীদের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশেষ করে যেখানে বাম-কংগ্রেসও নিজেদের জমি ফিরে পেতে মরিয়া, সেখানে মিমের প্রবেশ তৃণমূলের ভোট-মেশিনকে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
কলকাতার মাটি থেকে আসাদউদ্দিন ওয়েসি আজ ঠিক কী রাজনৈতিক বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের সবকটি রাজনৈতিক শিবির। হুমায়ুন কবীরের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং ওয়েসির সরাসরি সমর্থন শেষ পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলবে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এই জোট যে তৃণমূল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূলের সাজানো ভোটব্যাঙ্কে কি তবে এবার মিমের কাঁটা বিঁধতে শুরু করল? উত্তর দেবে আগামী মে মাসের ব্যালট বক্স।
