Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দিদির ‘অপমানে’র বদলা! টিকিট না পেয়ে তৃণমূলের হাত ছাড়লেন হেভিওয়েট, ফুটবে পদ্ম?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় ভাঙন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্দরমহলে। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক তথা নোয়াপাড়ার প্রাক্তন ঘাসফুল বিধায়ক মঞ্জু বসু তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার কথা ঘোষণা করলেন। এবারের প্রার্থী তালিকায় নিজের নাম না দেখে ক্ষোভে এবং অভিমানে দল ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। তবে শুধু টিকিট না পাওয়াই নয়, নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মঞ্চে ‘অপমান’ করার বিস্ফোরক অভিযোগও তুলেছেন তিনি। মঞ্জু বসুর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ধর্মতলার ধরনামঞ্চে মমতার আচরণে তিনি গভীরভাবে আহত। জানা যাচ্ছে, সেখানে সকলের সামনে তাকে কার্যত গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয় এবং নেত্রীর ব্যবহার ছিল অত্যন্ত কড়া। দীর্ঘ কয়েক দশক দলের জন্য লড়াই করার পর জনসমক্ষে এই ধরনের ‘অপমান’ হজম করতে পারেননি মঞ্জু দেবী। তারই পরিণতিতে আজকের এই কড়া পদক্ষেপ। মঞ্জু বসু জানিয়েছেন, তিনি দলের জন্মলগ্ন থেকে সাথে ছিলেন। কিন্তু এবার প্রার্থী তালিকায় তাকে ব্রাত্য রেখে অন্য কাউকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।নোয়াপাড়ার মানুষ যাকে চিনতেন, সেই নেত্রীকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছেন। অভিমানী মঞ্জু বসুর স্পষ্ট কথা, “যেখানে সম্মান নেই, সেখানে থাকার প্রশ্নই আসে না।”

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, হেভিওয়েটের দলত্যাগ ব্যারাকপুর মহকুমার রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে নোয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলে তার ব্যক্তিগত একটা জনভিত্তি রয়েছে। অর্জুন সিং-এর পর মঞ্জু বসুর মত প্রবীণ নেত্রীর বিদায়ে ঘাসফুল শিবিরের জমি যে টলমল, তা বলাই বাহুল্য।বিজেপি শিবিরের নজর এখন মঞ্জু বসুর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি কি পদ্ম শিবিরে যোগ দিচ্ছেন? যদি মঞ্জু বসু পদ্ম হাতে তুলে নেন, তবে নোয়াপাড়ায় তৃণমূলের ফল যে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, তা নিশ্চিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো কর্মীদের এভাবে সরিয়ে দিয়ে ‘পরিবারতন্ত্র’ বা ‘পছন্দের’ লোকেদের টিকিট দেওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে। মঞ্জু বসুর এই ইস্তফা সেই আগুনেই ঘি ঢালল। এখন দেখার, নির্বাচনের ময়দানে এই ‘অভিমানে’র ফল মমতাকে কতটা ভোগ করতে হয়। নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।

Exit mobile version