Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘সিদ্ধান্ত দিল্লির, শমীকবাবু একা নন!’ বিক্ষুব্ধ কর্মীদের ক্ষোভের মুখে এবার ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নামলেন দিলীপ!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের তিন প্রাক্তন সাংসদ—সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে বিজেপিতে যোগদান করানো এবং তাঁদের সরাসরি রাজ্যসভার টিকিট দেওয়া নিয়ে দলের অন্দরে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। নিচুতলার লড়াকু কর্মীদের একাংশের এই নীতিগত ক্ষোভকে আমরা আগেই আমাদের পোর্টালে তুলে ধরেছিলাম। কর্মীদের সেই ক্ষোভের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এবার দলের পাশে দাঁড়িয়ে এবং রাজ্য সভাপতির ওপর থেকে ক্ষোভের চাপ হালকা করতে ময়দানে নামলেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে শমীক ভট্টাচার্যের কোনো একক ভূমিকা নেই, এটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রণকৌশল।

তৃণমূল ত্যাগী নেতাদের এভাবে রাতারাতি বড় পদ দেওয়া নিচুতলার কর্মীরা সহজভাবে নিতে পারছেন না। রাজ্য দপ্তরে শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে এই দলবদলের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন স্তরে রাজ্য সভাপতির তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ দলের ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে গিয়ে বলেন, “শমীক ভট্টাচার্য তো এই ব্যাপারে একা সিদ্ধান্ত নেন না। পার্টির কেন্দ্রীয় স্তরেরও সুনির্দিষ্ট মতামত ও নীতি আছে। উনি শুধুমাত্র দিল্লির নির্দেশ পালন করেছেন।”

দিলীপ ঘোষ নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপটি পশ্চিমবঙ্গের চেনা রাজনীতির স্বাভাবিক গতিবিধির কিছুটা বিপরীতে গিয়েছে। আর সেই কারণেই শমীকবাবুকে কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ বা টার্গেটের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে ক্ষুব্ধ কর্মীদের শান্ত করতে এক বড় রাজনৈতিক সমীকরণের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। দিলীপ ঘোষের যুক্তি, দিল্লির নরেন্দ্র মোদী সরকারকে যদি দেশের স্বার্থে মসৃণভাবে কাজ করতে হয় এবং একাধিক জরুরি বিল পাস করাতে হয়, তবে লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (মেজরিটি) অত্যন্ত প্রয়োজন। এই নেতারা ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে অভিজ্ঞ, তাই কেবল প্রতীক (সিম্বল) বদলে তাঁরা পদ্মশিবিরে শামিল হয়েছেন, যা বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় স্বার্থেই করা।

দলের ক্ষুব্ধ ক্যাডারদের শান্ত করতে বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায়ের একটি ভিন্ন দিকও তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “সংসদে আমার ওঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, সুখেন্দুবাবু গুণী মানুষ, তাঁকে কেউ বদমাশ বলবে না।” একই সাথে তিনি মনে করিয়ে দেন, সুখেন্দুবাবুই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যিনি তৃণমূলের সাংসদ পদে থেকেও আরজি কর কাণ্ডসহ একাধিক বিষয়ে নিজের দলের স্বৈরাচারী নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সোচ্চার হয়েছিলেন এবং তার জন্য তাঁকে নিজের দলের কাছেই সাসপেন্ড হতে হয়েছিল।

বিজেপির নিচুতলার লড়াকু কর্মীদের ভাবাবেগ ও নীতিগত লড়াইকে সম্মান জানিয়েও দিলীপ ঘোষের এই বয়ান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, রাজ্য রাজনীতিতে সাময়িক বিতর্ক তৈরি হলেও দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই মুহূর্তে সংসদের উচ্চকক্ষে নিজেদের ক্ষমতা মজবুত করতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েছে। এখন দেখার, দিলীপ ঘোষের এই ব্যাখ্যার পর দলের আদি ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের ক্ষোভ কতটা প্রশমিত হয়।

Exit mobile version