Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

পঞ্চায়েতের চিরস্থায়ী আস্তানায় দিলীপের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! ৩ বছর পার হলেই বিদায়ের ঘণ্টা, ১০% ডেরায় স্পেশাল অডিট!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার অলিন্দ বদলে যেতেই বাংলায় সুশাসন এবং আসল ‘পরিবর্তন’ আসতে শুরু করেছে। গ্রামীণ প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দীর্ঘদিন ধরে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল, তার শিকড় উপড়ে ফেলতে এবার নজিরবিহীন অ্যাকশন মোডে নতুন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবারের প্রশাসনিক বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন— গ্রামীণ সুশাসন ফেরাতে কোনো আপস করা হবে না এবং পূর্বতন জমানার সমস্ত অনিয়ম কড়ায়-গণ্ডায় খতিয়ে দেখা হবে।

সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে বদলি নীতিতে। মন্ত্রীর সাফ নির্দেশ, কোনো কর্মী বা আধিকারিক একই আসনে বা একই জায়গায় ৩ বছরের বেশি টিকতে পারবেন না। ব্যস! এক কলমের খোঁচায় জুনের শুরুতেই ১,১০০ জনেরও বেশি কর্মীকে এক লপ্তে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকার ফলে স্থানীয় স্তরে যে কায়েমি স্বার্থ বা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল, তা এক ধাক্কায় ভেঙে চুরমার করে দিল নতুন সরকার। একেই বলে আসল প্রশাসনিক সাফাই অভিযান!

এখানেই শেষ নয়, দিলীপ ঘোষের আসল চাবুকটা কিন্তু মারল ‘স্পেশাল অডিট’। রাজ্যের মোট পঞ্চায়েতের মধ্যে প্রথম দফায় ১০ শতাংশ এলাকায় সোজা স্পেশাল অডিট নামানো হচ্ছে। বিশেষত যে সব পঞ্চায়েত এলাকা থেকে গরিবের আবাসন প্রকল্প কিংবা ১০০ দিনের কাজের ফান্ডের গরমিল নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ আসত, সেইসব ডেরায় গিয়ে এবার ফাইল খতিয়ে দেখবে স্পেশাল টিম। কার কত বড় ক্ষমতা, কার পকেটে কত বেনিয়মের টাকা ঢুকেছে— এবার আইনি উপায়ে সবটাই বুঝে নেবে শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেট। অনিয়ম প্রমাণিত হলে যে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

আর যারা ভাবছিলেন শূন্যপদ আটকে রেখে নিজেদের পকেট ভরার খেলা চলবে, তাদের সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে মন্ত্রী ঘোষণা করে দিলেন— পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিন স্তরে ফাঁকা থাকা ১১,০০০-এরও বেশি শূন্যপদে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। কোনো টেবিলের তলা দিয়ে লেনদেন চলবে না, কোনো ভুয়ো ওএমআর শিটের কারবার চলবে না। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে প্রয়োজনে ভিন রাজ্য থেকে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক এনে পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে শুধু যোগ্য ছেলেমেয়েরাই চাকরি পায়।প্রশাসনিক মহলের মতে, পঞ্চায়েত দপ্তরের এই কালান্তক সংস্কারই বুঝিয়ে দিল, বাংলায় এবার শুধু স্বচ্ছতার সাথে উন্নয়ন হবে, আর অনিয়মকারীদের জায়গা হবে শ্রীঘরে!

Exit mobile version