Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“কলেজগুলো এখন তোলাবাজির রিসোর্ট!” সুরেন্দ্রনাথ কাণ্ডে বিস্ফোরক দিলীপ, কাঠগড়ায় বিরোধীরা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শিক্ষা নাকি আলো ছড়ায়? নাকি আলোর নিচেই জমেছিল এই জমাট অন্ধকার? শিয়ালদহের ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম আর ছাদের ওপর যা যা মিলল— তা দেখে আজ কার লজ্জিত হওয়া উচিত? কার মাথা হেট হওয়া উচিত? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি বিদ্যা অর্জনের পবিত্র মন্দির, নাকি ক্ষমতাশালীদের আরাম-আয়েশের বিলাসবহুল ‘রিসোর্ট’? সুরেন্দ্রনাথ কলেজের লকার থেকে উদ্ধার হচ্ছে ব্যাগে ভরা লক্ষ লক্ষ টাকা, যা দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নাকি উইপোকায় নষ্ট হয়ে গেছে! আর কলেজেরই ছাদে রমরমিয়ে চলেছে এসি, বিলাসবহুল খাট-বিছানা আর আধুনিক পরিকাঠামোয় মোড়া এক গোপন আস্তানা! প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষাঙ্গনের ভেতরে এই সমান্তরাল দুনিয়া চলছিল কার মদতে? কার ইশারায়? এই চরম বিতর্ক সামনে আসতেই আজ সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তোপ দেগেছেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। চাঁছাছোলা ভাষায় তাঁর প্রশ্ন, “শিক্ষাব্যবস্থাটা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে বুঝতে পারছেন তো? কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন রিসোর্ট তৈরি হয়ে গেছে!”

দিলীপ ঘোষ আজ এক বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরেছেন, যা রাজ্যের প্রতিটি অভিভাবকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। তাঁর অভিযোগ, বিগত দিনে এই সমস্ত কলেজে এক একটি সাধারণ কোর্সে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি করানোর নাম করে নাকি ৩০, ৪০, ৫০ বা ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো! সাধারণ মধ্যবিত্ত বাবা-মায়েরা যখন সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঘাম-রক্ত জল করা টাকা তুলে দিতেন, সেই টাকাই কি তবে জমা হতো ইউনিয়ন রুমের গোপন লকারে? যে টাকা ব্যাংকে না গিয়ে ব্যাগে বন্দি হয়ে রইল, আর আজ তাতে উইপোকা লেগে গেল— সেই টাকার উৎস কী? এই প্রশ্নটাই আজ বাংলার বিবেককে দংশন করছে। তবে এই বিপুল অর্থের আসল মালিক কে, তা অবশ্য সম্পূর্ণ তদন্তসাপেক্ষ।সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাদে যে পরিকাঠামোর সন্ধান মিলেছে, তা কোনো সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশের সাথে মেলাতে পারছেন না শিক্ষানুরাগী মহল। সেখানে এসি (AC), বিলাসবহুল খাট ও আধুনিক বাথরুম সহ দুটি থাকার ঘরের সন্ধান মিলেছে। প্রশ্ন উঠছে, একটা কলেজের ছাদে কেন এমন বিলাসবহুল গোপন কক্ষ তৈরি করার প্রয়োজন পড়ল? ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার খামতি মেটানোর বদলে, সেখানে কারা এসে রাত কাটাতেন? কারা নিতেন এই ভিআইপি সুবিধা? মুচিপাড়া থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু ধোঁয়াশা কাটছে না।

এই গোটা ঘটনার পেছনে কলেজ পরিচালন সমিতির প্রাক্তন প্রভাবশালী সদস্য ও বিরোধী শিবিরের একাধিকের নাম জড়াচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। দিলীপ ঘোষের সোজা সাপটা অভিযোগ, এই সব অপকর্মের কথা ওপর মহলের নেতৃত্ব নাকি সবই জানতেন। তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জানতেন। সব অকাজ-কুকাজ করে উনি এখন রাস্তায় ড্রামা করছেন।” যদিও বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী তদন্তের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে।

বিগত কয়েক বছরে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রের একাধিক কেলেঙ্কারি সাধারণ মানুষের আস্থা নাড়িয়ে দিয়েছে। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের এই ঘটনা সেই ক্ষতে যেন নতুন করে নুনের ছিটে দিল। যে বাংলা একসময় শিক্ষায়, সংস্কৃতিতে দেশকে পথ দেখাত— আজ সেই বাংলার শিক্ষাঙ্গনে কেন পুলিশ ঢুকছে? কেন উদ্ধার হচ্ছে টাকার পাহাড়? সুরেন্দ্রনাথ কলেজের এই ঘটনা খতিয়ে দেখতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে একটাই বড় প্রশ্ন— এই তদন্ত কি কোনো যৌক্তিক পরিণতি পাবে? নাকি সময়ের নিয়মে ধামাচাপা পড়ে যাবে এই ‘রিসোর্ট কাণ্ড’? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।

Exit mobile version