প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তিনি ময়দানে নামলে রাজনৈতিক পারদ চড়তে বাধ্য। যাঁর চাঁছাছোলা বক্তব্য আর কড়া মেজাজ সর্বদা রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করে, সেই বিজেপি নেতা তথা পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবার ধরা দিলেন সম্পূর্ণ এক অচেনা অবতারে। যা দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে আমজনতা। সোমবার সকালে নিউটাউনের ইকো পার্কে চিরাচরিত প্রাতঃভ্রমণ শেষ করেই চেনা ছকের বাইরে হাঁটলেন তিনি। বাড়ি ফেরার বদলে তাঁর গাড়ি সোজা গিয়ে থামল কলকাতার চিনার পার্ক এলাকার একটি পেশাদার রেকর্ডিং স্টুডিওর সামনে!
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দিকে প্রতিনিয়ত বাক্যবাণ ছোঁড়া এই হেভিওয়েট নেতা এবার কানে তুললেন স্টুডিওর হেডফোন। রাজনীতির ময়দান থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে তিনি পা রাখলেন সুরের ভুবনে। পুরোপুরি পেশাদার সঙ্গীতশিল্পীদের মতো স্টুডিওর ভেতরে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে সুর মেলাতে দেখা গেল তাঁকে। জানা গেছে, সঙ্গীতশিল্পী লোকেশ গিরি এবং তাঁর স্ত্রী রিমাশ্রীর যৌথ পরিকল্পনায় একটি বিশেষ গান তৈরি হয়েছে, যেখানে মূল কণ্ঠ দিয়েছেন স্বয়ং দিলীপ ঘোষ।
ভেতরের খবর হলো, এই গানের সুর ও কথার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতির এক অতি চর্চিত অধ্যায়। বঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝাড়গ্রামের এক সাধারণ দোকানদারের কাছ থেকে সশরীরে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন। মোদীর সেই ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছিল। সেই বহুল আলোচিত ‘ঝালমুড়ি’ থিমকেই এবার গানের ছন্দে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
স্টুডিওর অন্দরে রেকর্ডিংয়ের সময় দিলীপ ঘোষের অত্যন্ত খোশমেজাজি একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে তাঁকে চড়া সুরে গাইতে শোনা যায়— “পুরনো চালকে গরম বালিতে যেই না নাড়ানাড়ি, সাদা সাদা মুড়ি পাবে সরু মোটা মুড়ি…”। এর পরেই গানের ছন্দে যোগ হয়— “বাঙালির প্রিয় ঝালমুড়ি, মন ভরে খান ঝালমুড়ি…”।
স্টুডিও সূত্রের খবর, গানের ভয়েস রেকর্ডিংয়ের মূল কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এখন চলছে চূড়ান্ত পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। খুব দ্রুতই এই বিশেষ রাজনৈতিক-সামাজিক গানটি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেতে চলেছে। বাংলার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই দিলীপ ঘোষের এই ‘গায়ক’ রূপ নেটপাড়ায় যে নতুন এক শোরগোল ফেলে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
