Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

জেলাশাসকদের ওপর খাঁড়ার ঘা? সময়সীমা পার হলেই কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি কমিশনের!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআর প্রক্রিয়াকে নির্বাচন কমিশন যেভাবে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে, ঠিক সেইভাবে পরিচালিত হচ্ছে না এই পশ্চিমবঙ্গের বুকে। অনেক ক্ষেত্রে গাফিলতি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। আর তা খুব ভালোমতই বুঝতে পেরেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাই আজ ভার্চুয়াল বৈঠকে দিল্লি থেকে দেওয়া হয়েছে একাধিক কড়া নির্দেশ। জেলাশাসকরা যদি ভেবে থাকেন যে, তৃণমূলের কথামত কাজ করবেন এবং ঢিলেঢালা মনোভাব নিয়ে কাজ করে গোটা প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা করবেন, তাহলে সেই দিন যে শেষ হয়ে আসছে, তা আজ নির্বাচন কমিশনের একটি কড়া নির্দেশিকার মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গেল।

এই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভালোমত চললেও অনেক জেলাতেই জেলা শাসকরা তৃণমূলের কথামত কাজ করছেন। যার ফলে গোটা প্রক্রিয়া বানচাল হওয়ার একটা আশঙ্কা করছে বিরোধীরা। প্রথম দিন থেকেই বেশ কিছু জেলার জেলাশাসকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী‌। আর আজ দিল্লি থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভার্চুয়াল বৈঠকে সেই জেলা শাসকদের যে বার্তা দিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, তাতে কিন্তু তাদের আর কোনো বিকল্প উপায় নেই। তারা যদি ভাবেন, চালাকি করে তৃণমূলের কথামত বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় চলে, গোটা প্রক্রিয়াকে বানচাল করবেন এবং ভুয়ো তথ্য আপলোড করে দেবেন। তাহলে কিন্তু এই বেনিয়মের ক্ষেত্রে তারা বিন্দুমাত্র রক্ষা পাবেন না। বরঞ্চ এক্ষেত্রে সতর্ক দৃষ্টি রেখে সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর যদি অনুমোদন পাওয়া তালিকার বাইরে কোনো নথি থাকে এবং তা যদি নজরে আসে কমিশনের, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে সেই জেলা শাসকের ওপর কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, এদিন দিল্লি থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করা হয়। আর সেখানেই বড় নির্দেশ দেওয়া হয়। বিভিন্ন জেলার জেলাশাসককে কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫ টার মধ্যে সমস্ত জেলার যে সমস্ত জেলা শাসকরা রয়েছেন, তাদের ওই আপলোড করা সমস্ত নথি অনুমোদন পাওয়া তালিকা অনুযায়ী রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হবে। আর যদি সেই সমস্ত জেলার জেলাশাসকরা ভেবে থাকেন যে তারা গাফিলতি করবেন এবং সেই তালিকা আপলোড করে দেবেন এবং তাতে কমিশনের নজর থাকবে না, তাহলেও যে তারা ভুল করবেন, সেই কথাও জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন‌। এক্ষেত্রে আইটি টিমকে দিয়ে সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানানো হয়েছে। আর সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যদি এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম কমিশনের নজরে পড়ে, তাহলে সেই জেলাশাসককে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর কমিশনের এই কড়া বার্তার পরে অনিয়ম করা জেলা শাসকদের ওপর যে দ্বিগুণ খাড়ার ঘা অপেক্ষা করছে, সেই সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

Exit mobile version