Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মহাকরণে ‘অগ্নি’ পরীক্ষা! দুই হেভিওয়েট দফতরের ব্যাটন হাতেই অ্যাকশন মোডে অগ্নিমিত্রা পাল!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় নতুন জমানার সূচনা হতেই প্রশাসনিক তৎপরতায় আমূল পরিবর্তন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় নারী শক্তি ও তারুণ্যের মিশেল হিসেবে বড় চমক দিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার একই সাথে নারী ও শিশু কল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন—রাজ্য প্রশাসনের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দফতরে পৌঁছে গিয়ে যেভাবে তিনি কাজ শুরু করেছেন, তাতে স্পষ্ট—আগামী দিনগুলোতে বাংলার পুর পরিষেবা ও নারী সুরক্ষায় বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে।

সোমবার দুপুরে সল্টলেকের নগর উন্নয়ন ভবনে পৌঁছন অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা। তবে সৌজন্য বিনিময়ের পর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তিনি সোজা বসে পড়েন পর্যালোচনা বৈঠকে। কর্ম কর্তাদের থেকে জেনে নেন রাজ্যের বকেয়া প্রকল্প এবং কেন্দ্রীয় অনুদানের বর্তমান স্থিতি।

বিজেপি-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দুটি দফতর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির (যেমন বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও) সঠিক রূপায়ন নিশ্চিত করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কলকাতা সহ রাজ্যের ছোট-বড় পুরসভাগুলোতে স্বচ্ছ প্রশাসন এবং ‘স্মার্ট সিটি’র স্বপ্ন বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। বিশেষ করে ‘পিএম আবাস যোজনা-শহুরে’ প্রকল্পের গতি বাড়ানো এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনের কাজ দ্রুত শেষ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তিনি।

বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা আমি কাজ দিয়ে দেব। নাগরিক পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে আর হয়রান হতে হবে না। নারী নিরাপত্তা ও শিশুদের পুষ্টির বিষয়ে কোনও আপস করা হবে না। প্রতিটি পয়সার হিসেব থাকবে এবং কাজ হবে স্বচ্ছতার সাথে।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অগ্নিমিত্রা পাল একাধারে জননেত্রী এবং পেশাদার মনোভাবসম্পন্ন। ফলে নগরোন্নয়ন দফতরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে তিনি কীভাবে সাধারণ মানুষের দুয়ারে পরিষেবা পৌঁছে দেন, এখন সেটাই দেখার। মন্ত্রীর এই ‘অ্যাকশন মোড’ দেখে সাধারণ মানুষের মনেও আশার আলো দেখা দিয়েছে—হয়ত এবার সত্যিই বদলে যাবে শহরের চেহারা আর সুরক্ষিত হবে নারীর অধিকার।

Exit mobile version