প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরশুমের মাঝেই রাজনৈতিক দলবদলের পারদ চড়ার সঙ্গে সঙ্গে রণক্ষেত্রের রূপ নিল শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও রাজ্য রাজনীতির নাটকীয় পরিবর্তনের আবহে এবার আক্রান্ত হলেন ‘মমতা তৃণমূল’ শিবিরের কর্মীরা। শুক্রবার গভীর রাতে দুর্গাপুর নগর নিগমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেনাচিতি বাজার সংলগ্ন নতুন পল্লি এলাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত একাধিক সক্রিয় তৃণমূল কর্মীর বাড়ি লক্ষ্য করে এই ভয়ঙ্কর হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল গভীর রাতে একটি লাল রঙের চারচাকা গাড়িতে চেপে কয়েকজন দুষ্কৃতী আচমকাই বেনাচিতি বাজার সংলগ্ন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পল্লি এলাকায় চড়াও হয়। গাড়ি থেকে নেমে তারা এলাকাটির চিহ্নিত ‘মমতা তৃণমূল’ কর্মীদের বাড়ি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। জানলার কাঁচ ভাঙার তীব্র শব্দ এবং দুষ্কৃতীদের অকথ্য গালিগালাজে গভীর রাতে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে হামলাকারীদের তাণ্ডবের স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছে।
বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের এই জটিল সময়ে আক্রান্ত কর্মীদের স্পষ্ট দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এলাকাকে অশান্ত করতে এবং রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে এই সুনিয়ন্ত্রিত হামলা চালিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় দলের কর্মীদের ভয় দেখাতেই এই ধরনের হিংসার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) স্থানীয় ও জেলা নেতৃত্ব এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনওরকম যোগসূত্র থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ স্থানীয় স্তরের বিষয় বা কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল হতে পারে, যার সাথে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। তারা পুলিশকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
হামলার খবর পাওয়া মাত্রই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। পুলিশ আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে বিশদ বিবরণ সংগ্রহ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তের কাজ শুরু করেছে। এলাকায় নতুন করে যাতে কোনও সংঘাত বা উত্তেজনা তৈরি না হয়, তার জন্য পুলিশি টহলদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
