প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে দুর্নীতির প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেসকে তুলোধোনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে রেশন ও পুরসভা— দুর্নীতির প্রতিটি স্তর তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির হাত থেকে বাংলাকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি।
আজ বোলপুরের এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় অমিত শাহ তৃণমূল জমানার একাধিক দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির নেপথ্যে আসল অপরাধী কে? ২৬ হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে কারা ছিনিমিনি খেলল?’’ উল্লেখ্য, স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) মারফত নিয়োগ করা ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের আদালতের নির্দেশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। শাহ এদিন সেই ক্ষততেই সরাসরি আঘাত করেছেন।
শুধুমাত্র শিক্ষক নিয়োগই নয়, শাহের নিশানায় ছিল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অনিয়মের অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘‘পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন বণ্টন কেলেঙ্কারি, এমনকি গরিবের হকের মনরেগা (১০০ দিনের কাজ) এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা নিয়েও বাংলায় যে লুঠতরাজ চলেছে, তা নজিরবিহীন।’’
বাংলার সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে অমিত শাহ দাবি করেন, তৃণমূলের আমলে উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূল জমানার সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি। এই চক্রব্যূহ ভাঙার ক্ষমতা কোনো আঞ্চলিক দলের নেই। একমাত্র মোদীজির নেতৃত্বে বিজেপি সরকারই বাংলায় স্বচ্ছ প্রশাসন ফিরিয়ে আনতে পারে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি (ED-CBI) রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী ও নেতাকে দুর্নীতির অভিযোগে হেফাজতে নিয়েছে, তখন শাহের এই আক্রমণ তৃণমূলের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। বিরোধী শিবির অর্থাৎ বিজেপির পক্ষ থেকে এই ভাষাকেই ‘বাংলার মুক্তির দিশা’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
শাহের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন শাসক দল তৃণমূল এই অভিযোগগুলিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে, তখন অমিত শাহ সরাসরি জনগণের দরবারে গিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন— বাংলার মানুষ কি এই দুর্নীতির অবসান চান না?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই হুঙ্কার আগামীর নির্বাচনে বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মানুষ এখন দেখতে চায়, শাহের এই ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলা’ গড়ার ডাক সাধারণ ভোটারের মনে কতটা জায়গা করে নেয়।
