Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

এবার দেশবাসীকে যাপনে বড় বদলের চরম বার্তা মোদীর! যুদ্ধকালীন আবহে পেট্রোল-ডিজেল ও সোনা কেনায় কড়া নিয়ন্ত্রণ চান প্রধানমন্ত্রী!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতা এবার সরাসরি ভারতের সাধারণ মানুষের ড্রয়িং রুমে পৌঁছে গেল। পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধের রেশ যাতে ভারতের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে না পারে, তার জন্য দেশবাসীকে এক অভূতপূর্ব সতর্কবার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হায়দরাবাদে প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বর্তমান সঙ্কটের প্রভাব কমানোর চাবিকাঠি এখন সাধারণ মানুষের হাতেই।

হায়দরাবাদের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের অভ্যাসে বড়সড় বদল আনতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর মূল বার্তাগুলো হলো: আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইকের বদলে মেট্রো ও সরকারি গণপরিবহণ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। জ্বালানি সাশ্রয় করতে এবং রাস্তায় ভিড় কমাতে অফিসগুলোকে আবারও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে অন্তত আগামী এক বছর সোনা কেনা এবং ধুমধাম করে বিদেশে গিয়ে বিয়ে বা ছুটি কাটানো এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজনে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহার বা কয়েকজন মিলে একটি গাড়িতে যাতায়াত (কারপুলিং) করার কথা বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন, ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে চড়া দামে আমদানি করে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ চলায় তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা যেকোনো সময় বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি মনে করেন, যদি দেশবাসী এখন থেকেই জ্বালানি ও বিলাসদ্রব্য আমদানিতে ‘সংযমী’ না হয়, তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ভারতের অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত হানতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে রক্ষা করার মরিয়া চেষ্টা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দেশবাসী যদি এই পরামর্শগুলো মেনে চলেন, তবে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক মন্দার আঁচ ভারতের গায়ে লাগবে না। তাঁর কথায়, “সামান্য অভ্যাস বদলই পারে দেশকে বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ‘জ্বালানি-বার্তা’ শুধুমাত্র পরামর্শ নয়, বরং এক দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত।

Exit mobile version