Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

এবার কি তবে বড় কোনো বিপাকে আই-প্যাক? ইডির তলব এড়ালেন ডিরেক্টর ঋষি রাজ, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আই-প্যাক (I-PAC) এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির টানাপোড়েন। সোমবার দিল্লির ইডি সদর দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল আই-প্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর ঋষি রাজের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি হাজিরা না দেওয়ায় দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আই-প্যাকের অন্দরে সত্যিই লুকানো আছে বড় কোনো আর্থিক লেনদেনের রহস্য?

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি সন্দেহজনক লেনদেন এবং ‘হাওয়ালা’ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই ঋষি রাজকে তলব করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে, যার হিসাবের সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এই আর্থিক তছরুপ বা মানি লন্ডারিং মামলার শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়।

উল্লেখ্য, আই-প্যাকের ওপর ইডির নজরদারি এই প্রথম নয়। গত ২ এপ্রিল বেঙ্গালুরুতে ঋষি রাজের বাসভবনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। সেই তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল নথি ও হার্ড ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১৩ এপ্রিল এই সংস্থারই আর এক ডিরেক্টর বিনেশ চন্দেলকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। বর্তমানে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। ডিরেক্টর পদমর্যাদার একজনকে গ্রেফতার এবং অপরজনকে তলবের পর হাজিরা না দেওয়া—এই দুইয়ে মিলে জল্পনা এখন তুঙ্গে।

সূত্রের খবর, ঋষি রাজ এবং অন্য এক ডিরেক্টর প্রতীক জৈন এই তদন্তের হাত থেকে বাঁচতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে ঋষি রাজের আজকের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কি নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে সময় চাইছেন নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কৌশল আছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এদিকে ইডি সূত্রের খবর, একবার হাজিরা না দেওয়ায় তাঁকে ফের দ্বিতীয়বার সমন পাঠানো হতে পারে। বারবার সমন এড়ালে ইডি আইনি কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আই-প্যাক সরাসরি রাজনীতির ময়দানে না থাকলেও দেশের তাবড় রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের দায়িত্ব সামলায়। তাই এই তদন্তের উত্তাপ পরোক্ষভাবে একাধিক রাজনৈতিক শিবিরের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার, ইডির পরবর্তী পদক্ষেপে ঋষি রাজ হাজিরা দেন কি না, নাকি এই তদন্ত নতুন কোনো মোড় নেয়।

Exit mobile version