প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নজিরবিহীন এক রাজনৈতিক থ্রিলারের সাক্ষী থাকল রাজধানী দিল্লি। নির্বাচন কমিশনের (ECI) অশোকা রোডের সদর দফতরে দুই পক্ষে বিভক্ত তৃণমূলের ম্যারাথন রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ হতেই এক নাটকীয় মোড় নিল বাংলার রাজনীতি। বৈঠক শেষ হতে না হতেই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের ঠিকানায় পাঠানো হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক চিঠি। কমিশনের এই আচমকা পদক্ষেপ এবং আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ডেডলাইন ঘিরে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।
রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিল্লির নির্বাচন কমিশন দফতরে দুই শিবিরের শুনানি ছিল সম্পূর্ণ পৃথক। প্রথমার্ধে কমিশনের ফুল বেঞ্চের মুখোমুখি হয় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ (বিদ্রোহী শিবির)। সেখানেই তারা কমিশনের টেবিল জুড়ে সাজিয়ে দেয় একের পর এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর আইনি নথি। দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, সাংগঠনিক পদের অপব্যবহার এবং সাধারণ কর্মীদের অধিকার হরণ সংক্রান্ত এমন কিছু ‘গোপন নথি ও তথ্যপ্রমাণ’ ঋতব্রত শিবির কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে, যা এক ঝটকায় ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে কালীঘাটকে।
কমিশন সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের জমা দেওয়া সেই সমস্ত অকাট্য নথির অনুলিপি স্পিড পোস্টে সরাসরি পাঠানো হয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের দপ্তরে।নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, এই সমস্ত নথির প্রেক্ষিতে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিকেল ৩টের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের চূড়ান্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে হবে। যেহেতু ১৬ সেপ্টেম্বরই রাজ্যের আসন্ন উপনির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন, তাই কমিশনের এই সময়ের বাধ্যবাধকতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কমিশনের এই কড়া চিঠির পরই গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দে। কমিশন সূত্রে স্পষ্ট আভাস, ১৬ তারিখ বিকেলের মধ্যে কালীঘাটের দেওয়া লিখিত জবাব যদি সন্তোষজনক না হয়, কিংবা ঋতব্রত শিবিরের তোলা অভিযোগের উপযুক্ত খণ্ডন মমতা শিবির করতে না পারে—তবে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় ফের দুই পক্ষকে মুখোমুখি বসিয়ে চূড়ান্ত শুনানি করতে পারে কমিশন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুনানির পরই হয়তো নির্ধারণ হতে চলেছে জোড়াফুল প্রতীকের আসল ভাগ্য।
