প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তৃণমূল কংগ্রেস কথায় কথায় দাবি করে যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে নাকি পরিচালিত করছে বিজেপি। তাদের কথামতই নাকি ভোটের সময় প্রতি হিংসামূলক আচরণ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু এই রাজ্যে যদি সত্যিই বিজেপির কথামত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পরিচালিত হতো, তাহলে হয়ত পরিস্থিতিটা অন্যরকম হতো। রাজ্যের মানুষ যা চাইছেন এবং বিজেপি নেতারা যা চাইছেন, সেই মত যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কাজ করতে পারছে না, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে তৃণমূলের এই সমস্ত রাজনৈতিক কথাবার্তা যে গ্রহণযোগ্যতা মানুষের কাছে নেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দীর্ঘদিন ধরে সাধারন মানুষ দেখতে চাইছেন যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কয়লা পাচার থেকে শুরু করে গরু পাচার, বালি পাচার, এমনকি নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় যারা মূল মাথা, তাদের গ্রেপ্তার করুক। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। আর এই পরিস্থিতিতে এবার কয়লা পাচারের ঘটনায় আবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তৎপর হতেই তাদের ভূমিকা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তুলে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
এই রাজ্যের বুকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বহু ঘটনার তদন্ত করছে। তবে সকলেই দেখতে চাইছে, আসল মাথাদের গ্রেপ্তারি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি ইডি সিবিআইকে। এর ফলে তাদের ভূমিকা নিয়ে বারবার বলতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় বিজেপি নেতাদেরও। তবে ইডি, সিবিআইয়ের ওপর ভরসা করে যে বিজেপি ভোটে লড়ে না, তা এর আগেও বিজেপি নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন। আর গতকাল কয়লা পাচারের ঘটনায় আবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তৎপর হতেই এবার তাদের ভূমিকা নিয়ে যে বিজেপি খুব একটা খুশি নয়, তা স্পষ্ট করে দিলেন শমীক ভট্টাচার্য।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখানেই কয়লা পাচারের ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ফের তৎপরতা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শমীকবাবু বলেন, “ইডি, সিবিআই নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। ইডি কি করছে, সিবিআই কি করছে, তাদের কাজের গতি নিয়ে আমাদের মধ্যেও প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। এই নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এইসব নিয়ে আলোচনা করে আমরা ক্লান্ত।” অর্থাৎ বিজেপির রাজ্য সভাপতিও বুঝিয়ে দিলেন এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের কথামত চলে বলে তৃণমূল যে দাবি করছে, সেটা একেবারেই ভিত্তিহীন। বরঞ্চ তারাও এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে মোটেই খুশি নয়। স্বাভাবিকভাবেই শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্য ভোটের মুখে যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
