প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরসুমের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে আছড়ে পড়ল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর এক চরম বিস্ফোরক দাবি। টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার দুর্নীতি সংক্রান্ত এক মামলার তদন্তে নেমে এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল জমানার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের নিজস্ব মিউজিক কোম্পানি থেকে সরাসরি টাকা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ইডির এই চাঞ্চল্যকর প্রেস রিলিজ সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে।
ইডির প্রেস বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে দাবি করা হয়েছে, ইন্দ্রনীল সেন যখন রাজ্যের মন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন, তখন নিয়ম বহির্ভূতভাবে মোট ৮৫ কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের বিভিন্ন সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই টেন্ডারগুলি পেয়েছিল ইন্দ্রনীল সেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি—ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং দীপেশ রায়ের মালিকানাধীন বিভিন্ন সংস্থা। তদন্তে উঠে এসেছে, সরকারি টেন্ডার পাওয়ার পরই ওই সংস্থাগুলি থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুরপথে ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক সংস্থায় ট্রান্সফার করা হয়। পরবর্তীতে সেই সব অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নগদে তুলেও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ইডির।
কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এই দুর্নীতির সময়কালেই ইন্দ্রনীল সেনের নিজস্ব মালিকানাধীন মিউজিক প্রোডাকশন ও রেকর্ডিং স্টুডিও ‘অক্টেভ রেকর্ডস’ (Octave Records)-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রহস্যজনকভাবে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ অর্থ জমা পড়েছিল। এরপরই ঘটে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর লেনদেন। ইডি জানিয়েছে, এই অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্ট থেকেই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
ইডি সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর এই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইন্দ্রনীল সেন দাবি করেন, এই লেনদেনে কোনো আর্থিক দুর্নীতি নেই। রয়্যালটি (Royalty Payment) বাবদ সম্পূর্ণ আইনি পথেই এই ৩০ লক্ষ টাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। তবে ইডি এই রয়্যালটির তত্ত্ব খতিয়ে দেখছে এবং এই বিপুল পরিমাণ টাকার নগদ জমার উৎস ঠিক কী, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে। নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় ইডির নথিতে সরাসরি মমতার নাম জড়িয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের ওপর চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
