Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ইডি দপ্তরে সাড়ে ৮ ঘণ্টা পার! গভীর রাতে বেরোলেন নুসরত: ফ্ল্যাট কেলেঙ্কারি মামলায় সিজিও-তে যা ঘটল…

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সাতসকালে হাজিরা দিয়ে বেরোতে বেরোতে রাত প্রায় সাতটা। মাঝের কয়েক ঘণ্টা কার্যত রুদ্ধদ্বার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে টলিউড অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। রাজারহাটে বয়স্ক নাগরিকদের ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মামলায় ফের একবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (ED) কড়া আতশাঁচের তলায় বসতে হলো তাঁকে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪-১৫ সাল নাগাদ। অভিযোগ, ‘সেভেন সেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা রাজারহাটে আবাসন প্রকল্পের টোপ দিয়ে প্রায় ৪২৯ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রায় ২৪ কোটি টাকা তুলেছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা ফ্ল্যাট পাননি। এই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর পদে ছিলেন নুসরত জাহান। অভিযোগ ওঠে, বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে নুসরত নিজে পাম অ্যাভিনিউতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। যদিও নুসরত আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেছিলেন যে, তিনি ওই সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং পরে তা সুদসহ ফেরতও দিয়েছেন।

এদিন নির্ধারিত সময়েই স্বামী যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছান নুসরত। হাতে ছিল বেশ কিছু নথিপত্র ভর্তি ফাইল। সূত্রের খবর, এদিন তদন্তকারীরা নুসরতকে একগুচ্ছ প্রশ্নমালা সামনে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিশেষ করে নতুন কিছু নথিপত্র এবং বয়ানের বৈপরীত্য নিয়ে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জবাবদিহি করতে হয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা পর ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠেন অভিনেত্রী। জেরা শেষে তাঁর চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট। গত বছর সেপ্টেম্বরেও নুসরতকে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ইডি সূত্রে খবর, গত কয়েক মাসে তদন্তে আসা কিছু নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই আজকের এই তলব। তবে কি ফের ডাক পড়বেন অভিনেত্রী? নাকি জমা দেওয়া নথিতেই মিলবে সমাধান? এই নিয়ে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

এখনও পর্যন্ত নুসরত জাহান বা তাঁর টিমের পক্ষ থেকে এই জেরা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে কোটি কোটি টাকার এই ফ্ল্যাট জালিয়াতি মামলা যে সহজে মেটার নয়, আজকের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদেই তা স্পষ্ট।

Exit mobile version