প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে কয়লা ও গরুপাচারের পর এবার বালি পাচার মামলাতেও তদন্তের আঁচ পৌঁছাল প্রশাসনের একদম অন্দরে। দীর্ঘ টালবাহানার পর এবার ইডি-র (Enforcement Directorate) জালে কলকাতা পুলিশের হাইপ্রোফাইল ডিপিসি (Special Branch) শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস। গত রবিবার তাঁর বালিগঞ্জের বাড়িতে প্রায় ২০ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর আগামীকাল (২২ এপ্রিল) তাঁকে সিজিওয় হাজিরার চূড়ান্ত নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। একইসঙ্গে এই মামলায় দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন জেলাশাসককেও তলব করা হয়েছে, যা নিয়ে নবান্ন থেকে লালবাজার—সর্বত্রই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, গত রবিবার ভোরে ইডি-র তিনটি টিম কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের বালিগঞ্জের একাধিক ফ্ল্যাটে হানা দেয়।
পুলিশ কর্তাকে দিনভর জেরা করার পাশাপাশি তাঁর বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, নদীগর্ভ থেকে অবৈধভাবে তোলা বালি পরিবহনের জন্য ভুয়ো কিউআর কোড (QR Code) সম্বলিত ই-চালান ব্যবহার করা হতো। ইডি-র চার্জশিট অনুযায়ী, এই দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সংস্থায় যেখানে ১০৩ কোটি টাকার বালি বিক্রির রেকর্ড রয়েছে, সেখামনে অ্যাকাউন্টে ১৩০ কোটি টাকা জমার হদিস মিলেছে। এই বাড়তি টাকার উৎসই এখন ইডি-র মূল লক্ষ্য।
বালি পাচার কেবল ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না বলে মনে করছে ইডি। অভিযোগ উঠেছে, ঝাড়গ্রামের নদীখাত থেকে বালি উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের প্রচ্ছন্ন মদত ছিল।
ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন জেলাশাসককে তলব করা হয়েছে এটা জানতে যে, কেন নদীগর্ভের ৫০ মিটারের মধ্যে অবৈধ খনন চললেও প্রশাসন নীরব ছিল।
ইডি আধিকারিকদের সন্দেহ, পাচারের টাকার একটি বড় অংশ প্রভাবশালী আধিকারিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বিভিন্ন শেল কোম্পানিতে (Shell Companies) বিনিয়োগ করা হয়েছে। সেই সূত্রেই ডিসিপি-র দুই ছেলেকেও জেরার তালিকায় রাখা হয়েছে।
এই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল মূলত ২০২২ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় অবৈধ বালি খননের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এর আগে ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতার করেছে ইডি, যাঁর সঙ্গে শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আগামীকাল সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার সময় এই পুলিশ কর্তাকে তাঁর সম্পত্তির উৎস এবং ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে।
