প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন অস্বস্তি বাড়ছে শাসক শিবিরে। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ED)-র কড়া স্ক্যানারে রাসবিহারীর বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা এবারের প্রার্থী দেবাশিস কুমার। সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে জমি সংক্রান্ত এক বড়সড় প্রতারণা মামলার তদন্তে তাঁকে তলব করা হয়। নির্ধারিত সময়েই ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন তিনি। সূত্রের খবর, বর্তমানে তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি অমিত গঙ্গোপাধ্যায় নামক এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ঠিকানায় হানা দিয়েছিল ইডি। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ফ্ল্যাট বা জমি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তল্লাশির সময় ওই ব্যবসায়ীর ডেরা থেকে বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার হয়, যেখানে বেশ কিছু প্রভাবশালীর নাম ও আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত মিলেছে বলে খবর। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কি এবার দেবাশিস কুমারকে তলব? রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক মুখে রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়কের এই সিজিও-যাত্রা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ইডি খতিয়ে দেখছে, ওই ব্যবসায়ীর প্রতারণার কারবারের সঙ্গে কোনোভাবে এই হেভিওয়েট নেতার যোগসূত্র রয়েছে কি না। যদি কোনো বেআইনি লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ মেলে, তবে নির্বাচনের আগে এটি তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে। সাধারণ মানুষের রক্ত জল করা টাকা কোথায় কার পকেটে গিয়েছে, তা ইডি-র তদন্তেই স্পষ্ট হবে। আইন তার নিজের পথেই চলবে।” তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আপাতত ইডি আধিকারিকরা দেবাশিস কুমারের বয়ান রেকর্ড করছেন। উদ্ধার হওয়া নথির সঙ্গে তাঁর বয়ান কতটা মিলছে, তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। এই জিজ্ঞাসাবাদের পর কি নতুন কোনো প্রভাবশালী নাম সামনে আসবে? নাকি দেবাশিস কুমারের বিপদ আরও বাড়বে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য।
