প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পুজো শুরুর ঠিক মুখেই রাজ্যে এক নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে নড়েচড়ে বসল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের ভিআইপি পাস ও টিকিট বিক্রির আড়ালে কোটি কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলায় আজই সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হলো রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেনকে। গতকাল দিনভর কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলার মোট ১৫টি ঠিকানায় দীর্ঘ প্রায় ১৬ ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশি প্রক্রিয়া শেষে গভীর রাতে ইডির পক্ষ থেকে এই সমন জারি করা হয়। আজ, বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে সশরীরে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।
গতকাল মঙ্গলবার সাতসকাল থেকেই প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবন, হিন্দুস্তান পার্কের আত্মীয়ের বাড়ি, হাইল্যান্ড পার্কের এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায়ীর ডেরা থেকে শুরু করে হুগলির সিঙ্গুরের খামারবাড়িতে একযোগে চিরুনি তল্লাশি চালায় ইডি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া ঘেরাটোপে দিনভর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর রাত ১১টা নাগাদ আধিকারিকরা মন্ত্রীর বাড়ি থেকে বের হন এবং আজ সকালেই তাঁকে তলব করেন।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরই এই প্রতারণার ছক কষা হয়েছিল। অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নেতৃত্বাধীন ‘মাস আর্ট’ (massArt) নামক একটি বিশেষ সংস্থা কলকাতার প্রথম সারির প্রায় ২৪টি নামী পুজো কমিটিকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে। সাধারণ দর্শনার্থীদের পুজো উদ্বোধনের আগেই প্যান্ডেলে ঢোকার বিশেষ সুযোগ করে দিতে ১৭৪৯ টাকা থেকে ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত চড়া মূল্যে বিক্রি করা হতো ‘প্রি-পূজা টিকিট’ বা প্রিভিউ পাস। সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগ হলো, এই টিকিট ও পাসে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কোর লোগো ও নাম অপব্যবহার করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থার কনসালট্যান্ট জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে জানা গেছে, ইউনেস্কো অফিশিয়ালি এই টিকিট বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ইডির অনুমান, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এভাবে ভুয়ো টিকিট ও পাস বিক্রি করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি চালানো হয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এ তদন্ত শুরু করে ইডি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সাধারণ মানুষের থেকে সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ টাকার সিংহভাগই বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ও সাংস্কৃতিক সংস্থার আড়ালে লল্ডারিং বা পাচার করা হয়েছে। গতকালের ১৬ ঘণ্টার তল্লাশিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।যদিও প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘মাস আর্ট’ ইউনেস্কোর অনুমতি নিয়েই কাজ করেছিল। তবে আজ সকাল ১০টার এই জরুরি সমনে ইন্দ্রনীল সেন ইডি দফতরে হাজির হয়ে তদন্তে কতটা সহযোগিতা করেন, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্য রাজনীতির।
