প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের পুর-নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে এবার সবথেকে বড় ধামাকা! প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর জেলযাত্রার পর এবার ইডির মারণ কামড় কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের অন্দরমহলে। গত জুনে মদন মিত্রের ভবানীপুর ও কামারহাটির বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালানোর পর, এবার সরাসরি তাঁর স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে সমন পাঠাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আগামী সপ্তাহেই তাঁদের সমস্ত নথিপত্র সহ সল্টলেকের সিজিও (CGO) কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই তলব কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। কামারহাটি পৌরসভায় বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে যে কোটি কোটি টাকার খেলা চলেছিল, তার নথিপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়েই বিধায়কের পরিবারের সদস্যদের নাম উঠে আসে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সন্দেহ, নিয়োগ দুর্নীতির বিপুল কালো টাকা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মদন মিত্রের পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। ধৃত প্রোমোটার অয়ন শীলের ডায়েরিতে মেলা রহস্যময় ‘MM’ নামের আদ্যক্ষর কি আদতে মদন মিত্র, নাকি এর পেছনে পরিবারের অন্য কারোর যোগ রয়েছে—তা জানতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ।
এর আগে গত মে মাসে এই একই মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে ইডি। সুজিত বসুর বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকার দুর্নীতির চার্জশিটও পেশ করা হয়েছে। সুজিতের পর যেভাবে মদন মিত্রের বাড়িতে তল্লাশি এবং এখন তাঁর স্ত্রী-পুত্রদের ডেকে পাঠানো হলো, তাতে ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট ধারণা—পরবর্তী বড় ধাক্কাটি আসতে চলেছে খোদ কামারহাটির বিধায়কের ওপর।
