প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব রেকর্ড গড়ে ইতিহাস তৈরি করল তিলোত্তমা কলকাতা। আজ, ১০ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) সন্ধ্যায় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সের রাজকীয় ‘নন্দনকানন’ মঞ্চে রচিত হলো এক অবিস্মরণীয় নজির। দেবীপক্ষের আবাহনে একসঙ্গে ৩,০০০ (তিন হাজার) ঢাকির অনন্য যুগলবন্দী ও ঢাকের বোল বিশ্বের দরবারে এক নতুন গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড (Guinness World Record) নথিভুক্ত করল। এই মহাজাগতিক কীর্তির পর অনুষ্ঠান মঞ্চে গিনেস কর্তৃপক্ষের দেওয়া অফিশিয়াল বিশ্বরেকর্ডের শংসাপত্রটি পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগারওয়াল। হাজার হাজার মানুষের হর্ষধ্বনি, ঢাকের গর্জন আর আকাশের বুকে ৩,০০০ ড্রোনের আলোর খেলার মাঝে এই মায়াবী মুহূর্তটি আজ প্রত্যক্ষ করল ক্রীড়াঙ্গন ইডেন।
আজ সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত মেগা ‘মহালয়া শো’ উপলক্ষে ইডেন গার্ডেন্সে সমবেত হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৩,০০০ ঐতিহ্যবাহী ঢাকি। তাঁদের হাতের কাঠির জাদুতে একসঙ্গে বেজে ওঠে মা দুর্গার আগমনী ধ্বনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিশিয়াল বিচারকদের সামনে নিখুঁত ছন্দে এই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সটি সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ার কথা ঘোষণা করা হয়। মঞ্চে উপস্থিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং প্রবীণ সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য সহ আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবল করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম।
বিশ্বরেকর্ড অর্জনের পর, অনুষ্ঠান মঞ্চেই এক ঐতিহাসিক প্রশাসনিক সৌজন্য ও উদযাপনের ছবি ফুটে ওঠে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া সেই গৌরবময় শংসাপত্রটি নিয়ে মঞ্চে ঘোষণা করা হয় যে, বাংলার লোক সংস্কৃতি ও ঢাকি ভাইয়েরা আজ বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস তৈরি করেছে। এর পরপরই মঞ্চে দাঁড়িয়ে সবার সামনে সসম্মানে সেই বিশ্বরেকর্ডের স্মারক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করেন মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগারওয়াল। মুখ্যমন্ত্রী সেই বিশ্বরেকর্ডের শংসাপত্রটি উঁচিয়ে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকদের দেখাতেই ইডেনের গ্যালারি জুড়ে তুমুল উল্লাসের বন্যা বয়ে যায়। মঞ্চে এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল আর এন রবি-ও, যিনি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হিসেবে তালি বাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও বাংলার ঢাকিদের অভিনন্দন জানান।
বিগত জমানার প্রথাগত রেড রোডের পুজো কার্নিভাল বন্ধ করে উৎসবের শুরুতেই মহালয়ার পূণ্যতিথিতে ইডেনকে ‘নন্দনকানন’ সাজিয়ে এই নতুন ও মেগা ইভেন্টের পরিকল্পনা করে বর্তমান বিজেপি সরকার। ৩,০০০ ড্রোনের চোখধাঁধানো লেজার প্রদর্শনী, শঙ্খবাদন এবং ৩,০০০ ঢাকের এই অনন্য মেলবন্ধন আজ প্রমাণ করে দিল যে বাংলার পুজো উৎসব এবার বিশ্বমঞ্চের এক সম্পূর্ণ নতুন ও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।
