Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের মুখে নজিরবিহীন ‘অপারেশন থান্ডার’! এক রাতে পুলিশের জালে ১৩৫ দাগি অপরাধী, তোলপাড় ৪ জেলা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগে রণংদেহি মেজাজে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশের পর কার্যত ঘুম উড়েছে দুষ্কৃতীদের। গত ২৪ ঘণ্টায় কোচবিহার থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগণা—রাজ্যের চার জেলায় এক সাঁড়াশি অভিযানে মোট ১৩৫ জন দাগি অপরাধীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। কমিশনের চোখরাঙানির মুখে পুলিশের এই অ্যাকশনকে ‘নজিরবিহীন’ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কড়া অবস্থান নিয়েছে। প্রতিটি থানায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এলাকার পুরনো বা দাগি অপরাধীদের তালিকা (History-sheeters) তৈরি করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই বিশেষ টিম গঠন করে একযোগে হানা দেয় পুলিশ। মূলত গত ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত বকেয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা (NBW) কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই মেগা অভিযান।

পুলিশি অ্যাকশনে সবথেকে বেশি তৎপরতা দেখা গিয়েছে কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণায়। কোচবিহার: প্রথম দফার ভোট এই জেলাতেই। তাই এখানে নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। নাকা চেকিং-এর মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কাজও জোরকদমে চলছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদা: এই দুই জেলাকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ তল্লাশি চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষে যুক্তদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যহত। দক্ষিণ ২৪ পরগণা: অপরাধীদের খোঁজে এখানেও ব্লক স্তরে পুলিশি চিরুনি তল্লাশি চলেছে।

মূলত যাদের নামে বকেয়া জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল এবং যারা অতীতে নির্বাচনী হিংসায় জড়িত ছিল, তাদেরকেই টার্গেট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনোভাবেই আপস করা যাবে না।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এক রাতে ১৩৫ জন গ্রেফতার হওয়ার এই ঘটনাটি অপরাধীদের কাছে বড় বার্তা। এই পদক্ষেপ ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং অশান্তি রুখতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আপাতত জেলাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীও রুট মার্চ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Exit mobile version