প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর নিয়ে কি প্রবল যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন, তা খুব ভালো মতই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে সকলের কাছে। এখন সেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে আটকানোর জন্য তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। সম্প্রতি সেই মামলার শুনানি হয়েছে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের আইনজীবী থাকা সত্ত্বেও তিনি ক্রেডিট নেওয়ার জন্য সেই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গিয়ে সেখানে বলতে শুরু করেছিলেন। বিচারপতি বলেছিলেন যে, আপনার তো আইনজীবী রয়েছে, তিনিই যথেষ্ট দক্ষ। কিন্তু তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী সেখানে তার কথা বলতে শুরু করেন। পরবর্তীতে গোটা বিষয়টি নিয়ে শুধুমাত্র প্রচার পাওয়ার জন্যই যে মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্ত কাজ করছেন তা নিয়ে কটাক্ষ করে বিরোধীরা। তবে একাংশ সংবাদমাধ্যম এবং তৃণমূলের ডিজিটাল যোদ্ধারা এটা নিয়ে এমনভাবে প্রচার করে, যেন জীবনে কোনো রাজনীতিবিদ কোর্টে সওয়াল করেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনের বিষয়কে ঐতিহাসিক বলে লাগাতার প্রচার করা হয়। তবে একদিন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েই কি হম্বিতম্বি শেষ হয়ে গেল এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর? ইতিমধ্যেই এই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে।
বলা বাহুল্য, আজ সুপ্রিম কোর্টে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা যে মামলা, সেই এসআইআর মামলার শুনানি রয়েছে। এর আগের দিন যেদিন শুনানি হয়েছিল, সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু তারপরেও তার আইনজীবী থাকার পরেও তিনি সেখানে তার কথা বলতে শুরু করেছিলেন। এমনকি তার ইংরেজি অনুবাদক নিয়ে যাওয়া উচিত ছিলো বলেও কটাক্ষ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে হঠাৎ করে কি এমন হলো, একদিন সওয়াল করেই কি হাঁপিয়ে গেলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? কেননা যতদূর খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, আজ দুপুর দুটোর সময় সুপ্রিম কোর্টে এই এসআইআর মামলার শুনানি হলেও সেখানে সশরীরে থাকবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে তিনি ভার্চুয়ালি থাকতে পারেন বলেই খবর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভালো মতই জানেন, তিনি যে সমস্ত বিষয় তুলে ধরেছেন, এর আগের দিন সুপ্রিম কোর্টে তার জবাব আদালত দিয়ে দিয়েছে। এমনকি আধার কার্ড নিয়ে তার যা বক্তব্য, তার পরিপ্রেক্ষিতেও বিচারপতি নিজেদের বক্তব্য জানিয়ে দিয়েছেন। এমনকি মাইক্রো অবজারভার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন যে কথা বলেছে, তাতে পাল্টা চাপে পড়ে গিয়েছিল রাজ্য। ফলে এই পরিস্থিতিতে এখন রাজ্যের পক্ষ থেকে কমিশনের কাজে সহযোগিতা করার জন্য ৮ হাজারের বেশি অফিসার দেওয়া হবে বলে সম্মতি প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ ঠ্যালায় পড়েই রাজ্য এবার এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর তার মধ্যে আজ যে সুপ্রিম কোর্টের শুনানি হবে, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগের দিন সশরীরে থাকলেও আজ সেখানে উপস্থিত থাকবেন না। কারণ তিনি খুব ভালো মতই জানেন যে, এর আগের দিন নিজের আইনজীবী থাকা সত্ত্বেও তিনি যেভাবে সওয়াল করেছেন, তাতে তার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু শুধুমাত্র ফুটেজ খাওয়ার জন্যই যে তিনি এই সমস্ত কিছু করছেন, সেটা সাধারণ মানুষও বুঝতে পেরেছেন। আর সেই কারণেই একদিন হুম্বিতম্বি করেই আজ ভার্চুয়ালি সেই শুনানিতে উপস্থিত থেকেই গোটা বিষয় নজর রাখতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
