প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
যে নিয়োগ দুর্নীতির কারণে তিনি জেলে গিয়েছিলেন, এখন জেল থেকে ফিরে এসে এমন ভাব দেখাচ্ছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, যেন তিনি কিছুই জানেন না। চেষ্টা করছেন, আবার যাতে তিনি টিকিট পান। আর সেই কারণে আজ থেকে আবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা শুরু করেছেন তিনি। একটা মানুষ কি করে এতটা নির্লজ্জ হলে দীর্ঘদিন জেল খেটে আসার পরেও আবার বাইরে বের হতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। আর তার মধ্যে শুধু বাইরে বেরোনো নয়, আবার বাইরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যে যে ভাতা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেকারদের পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, সেই ভাতার পক্ষেই মন্তব্য করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, যে মানুষটি বেকারদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে, অবৈধ চাকরি দিয়ে বান্ধবীর খাটের তলা থেকে কোটি কোটি টাকা বের হয়, আজকে সেই মানুষটিই কিনা বলছেন, ভাতার থেকেও বড় প্রয়োজন কর্মসংস্থান। যা শুনে রীতিমত হাসি থামাতে পারছে না বিরোধীরা।
আজ বিভিন্ন অনুপ্রাণিত মিডিয়ারা সকাল থেকেই একটি খবর করতে শুরু করেছেন যে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি আগেই জেল থেকে ফিরে জানিয়েছিলেন যে, তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে মানুষের কাছে যাবেন। আর এখন পার্থবাবু বুঝতে পেরেছেন যে, তৃণমূল দলও হয়ত তাকে টিকিট দেবে না। তবুও আঠার মত লেগে থেকে যেভাবেই হোক, টিকিট যাতে একটা পাওয়া যায়, তার জন্য এখন জনদরদী হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। আজ নিজের বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে। এতকিছুর পরেও তিনি কি করে মাথা উঁচু করে মানুষের সামনে যাচ্ছেন, সেটা নিয়েই সকলের প্রশ্ন। কিন্তু তারপরেও আবার এই পার্থবাবু যে বিষয়ে তিনি দুর্নীতি করে জেলে গিয়েছেন, সেই কর্মসংস্থান নিয়েই বড় বড় বাতেলা দিচ্ছেন। সত্যিই কি তার মুখ থেকে এটা শোভা পায়? সত্যিই কি তার মধ্যে বিন্দুমাত্র লজ্জা বলে কিছু আছে? এতগুলো বেকারের চোখের জল ফেলিয়ে, এতগুলো যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের চাকরি খেয়ে, জেলে দীর্ঘদিন কাটিয়া আসার পরেও কি শুভবুদ্ধির উদয় হচ্ছে না রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর? প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।
এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় যখন নিজের বাড়ি থেকে বের হন, তখন তাকে সাংবাদিকরা রাজ্য জুড়ে যে ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছেন, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করেন। আর সেখানেই ভাতার পক্ষেই মতামত দেন তিনি। তবে তারপরেও পার্থবাবু বলেন যে, সবার আগে কর্মসংস্থান প্রয়োজন। আর এখানেই বিরোধীদের পাল্টা খোঁচা, কে এই ধরনের কথা বলছেন? যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য এতগুলো যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে সরে গিয়ে রাস্তায় বসতে হলো, যে পার্থবাবুর জন্য টাকার বিনিময়ে কিছু অযোগ্য মানুষ চাকরি পেল, আজকে তিনি বলছেন, এই কর্মসংস্থানের কথা। সময় থাকতে যখন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন, তখন কেন তার ব্যবস্থা করেননি? তিনি তো বলছেন, তিনি নাকি কখনও তার জীবনে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তাহলে এমনি এমনিই তিনি জেলে গেলেন, এটা মেনে নিতে হবে? আর তিনি যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নাই হবেন, তাহলে এই যে বড় অপকর্ম শিক্ষাক্ষেত্রে ঘটে গেল, তাতে যে বা যারা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের মুখোশ তিনি খুলে দিচ্ছেন না কেন? আসলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই ধরনের নাটক আরও এক ধরনের নির্লজ্জতা বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।
