Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মণ্ডপ চত্বরে সনাতন সংস্কৃতির অবমাননা রুখতে কড়া ফ্লেক্স! উৎসবের মুখে এন্টালিতে রাজনীতি করার অপচেষ্টায় ক্ষুব্ধ আমজনতা!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে কলকাতার রাজপথে সনাতন সংস্কৃতির গৌরব রক্ষা এবং উৎসবের পবিত্রতা বজায় রাখতে এক নজিরবিহীন ও দৃঢ় পদক্ষেপের ছবি সামনে এল। এন্টালির পটারি লেনের ‘কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতি’-র মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় উৎসবের আবহে রাজনীতি বন্ধ করার ডাক দিয়ে টাঙানো হয়েছে একটি কড়া ফ্লেক্স। কিন্তু উৎসবের এই সর্বজনীন মঞ্চকেও নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে মরিয়া একটি মহল সেখানে পাল্টা হোর্ডিং ঝুলিয়ে বিতর্ক তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।

ঘটনার সূত্রপাত কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপের বাইরে টাঙানো একটি বিশেষ ফ্লেক্সকে কেন্দ্র করে। পুজো কমিটির ওই ফ্লেক্সে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছিল যে, এবার পুজো প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের নাস্তিক বা সনাতন সংস্কৃতি-বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনের বইয়ের স্টল বা প্রচারের টেবিল বসতে দেওয়া হবে না। পুজো উদ্যোক্তাদের মতে, যারা দেবী দুর্গার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না এবং পুজোর পবিত্রতা বোঝে না, উৎসবের দিনগুলিতে তাদের সস্তা রাজনৈতিক প্রচারের জন্য মণ্ডপ চত্বর ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু এই শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এবং পুজো প্রাঙ্গণে জোর করে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে ঠিক তার পাশেই একটি পাল্টা হোর্ডিং ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। উৎসবের মুখে মণ্ডপের দোরগোড়ায় এই ধরনের উস্কানিমূলক পাল্টা ব্যানার ঝুলিয়ে পরিবেশ নষ্ট করার এই অপচেষ্টাকে কোনোভাবেই ভালো চোখে দেখছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পুজো কমিটির এই কড়া অবস্থানের পেছনে রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের নীতিগত অবস্থান। নবান্নের তরফে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বাঙালির ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং সনাতন ঐতিহ্য নিয়ে যারা রাজনীতি করবে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া বার্তাকে হাতিয়ার করেই এবার কলকাতার একাধিক পুজো কমিটি মণ্ডপ চত্বরকে সম্পূর্ণ রাজনীতি-মুক্ত এবং পবিত্র রাখার সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে, যার বড় প্রতিফলন দেখা গেল এন্টালিতে।

দুর্গাপুজো সবসময়ই সনাতন সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং আনন্দের উৎসব। বছরের এই চারটে দিন মানুষ সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে মেতে উঠতে চান। কিন্তু উৎসবের ঠিক মুখে এসেও যেভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মহল জোর করে মণ্ডপ চত্বরে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে, তাতে বিরক্ত সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ স্পষ্ট জানাচ্ছেন, “পুজোটা ভক্তি এবং আনন্দের জায়গা। এখানে যারা ধর্ম বা দেবদেবীতে বিশ্বাস করে না, তাদের দোকান খোলার জেদ কেন? বছরের এই চারটে দিন অন্তত এদের নোংরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকা উচিত ছিল।”

Exit mobile version