Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

এসব কি করছে ইডি? আজও সুপ্রিম কোর্টে হলো না আইপ্যাক মামলার শুনানি!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- আইপ্যাক মামলার শুনানিও কি ডিএ মামলার মত হয়ে গেল? যদিও বা দীর্ঘদিন পর বকেয়া মহার্ঘভাতা মামলায় রায়দান করেছে সুপ্রিম কোর্ট‌। কিন্তু যে আইপ্যাক মামলার শুনানির দিকে গোটা দেশ এবং রাজ্যবাসীর নজর রয়েছে, যেখানে সকলেই চাইছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তদন্ত এবং তল্লাশি চলাকালীন সেখানে পৌঁছে গিয়ে নথিপত্র নিয়ে এসেছেন, তাতে তার শাস্তি হোক, এইটা দেখতে, সেই সময় বারবার করে সেই মামলা পিছিয়ে যাওয়ার কারণ কি? আজকেও রাজ্যবাসী আশা করেছিলেন যে, আজ হয়ত সেই মামলার শুনানি হবে। কিন্তু আজকেও সেই শুনানি হলো না। যার ফলে প্রশ্ন উঠছে যে, আজ আবার কি এমন হলো! যার জন্য আজকেও পিছিয়ে গেল এই মামলার শুনানি?

প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যায়। যেখানে তারা কয়লা পাচার মামলায় তল্লাশি চালায়। আর সেই সময় হঠাৎ করেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছে গিয়ে বেশ কিছু নথিপত্র নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী সহ তার সঙ্গে যে সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিকরা এসেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রথমে একদিন শুনানি হলেও, তারপর দিন যেদিন শুনানির কথা ছিলো, ঠিক সেই শুনানির আগের দিন একদম শেষ মুহূর্তে রাজ্যের পক্ষ থেকে হলফনামা দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই ইডি পাল্টা হলকনামা দেওয়ার জন্য সময় চেয়ে নেয়। তারপর আবার যখন পরবর্তী শুনানির দিন আসে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ, তাই শুনানি দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয় রাজ্যের পক্ষ থেকে। আর সেই আবেদন মোতাবেক আজ সুপ্রিম কোর্টের এই আইপ্যাক মামলার শুনানি ছিলো। কিন্তু আজ আদালতে যে ঘটনা ঘটে গেল, তারপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন একাংশ। তাদের একটাই বক্তব্য যে, ইডি তো খুব ভালো মতই জানে যে, আজ শুনানির দিন রয়েছে। তারপরেও তারা কেন গোটা প্রক্রিয়াকে গুছিয়ে উঠতে পারলো না? তাহলে কি তাদেরই সদিচ্ছার অভাব রয়েছে? তারা কি চাইছে না যে, যে ঘটনা ঘটেছে এবং যারা এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত, তাদের শাস্তি হোক? সময় থাকতে গোটা বিষয়টি গুছিয়ে না নিয়ে কেন বারবার এই মামলার শুনানি যাতে পিছিয়ে যায়, তার জন্য চেষ্টা হচ্ছে? এটাই আবার ইডির ভেতরের মনোবৃত্তি নয় তো? তা নিয়েও অনেকের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

সূত্রের খবর, এদিন সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি ছিলো। কিন্তু সেখানেই ইডির পক্ষ থেকে হলফনামা দাখিল করার জন্য আরও সময় চাওয়া হয়। সলিসিটর জেনারেল আদালতে আবেদন করে আরো যাতে সময় দেওয়া হয়, তার জন্য অনুরোধ করেন। এক্ষেত্রে ইডি এখনও পর্যন্ত অফিসিয়ালি যে জল্নাপ তৈরি করেছে, তা ফাইল করেনি জন্যেই সময় দেওয়া হয়েছে। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই আগামী মার্চ মাসের ১৮ তারিখ এই মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। আর এখানেই বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, ইডির কি সত্যিই এই মামলায় মন নেই? তারা তো খুব ভালো করেই জানে যে, কি ঘটনা ঘটেছে। তারপরেও যখন সকলেই তাকিয়ে রয়েছেন যে, ইডি বড় কোনো যুক্তি দিয়ে যারা এই তল্লাশিতে বাধা দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে, সেখানে ইডি যদি নিজে থেকেই আবার মামলা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সময় নেয়, তাহলে তো এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। দিনের শেষে তেমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

Exit mobile version