প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
সব ব্যাপারে তাকে বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে হবে। আর সেই কারণে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোস পদত্যাগ করার পরেই তার প্রতি যেন বাড়তি দরদ উথলে পড়ছে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এতদিন সেই সিভি আনন্দ বোস যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন, তখন তার সম্পর্কে কি না কি বলে গিয়েছেন এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি তার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি একা রাজভবনে যেতে নিরাপদ বোধ করছেন না বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। আর হঠাৎ করে সেই সিভি আনন্দ বোস পদত্যাগ করতেই তার পক্ষ নিয়ে ঘুরিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করে এখন অশ্রু বিসর্জন করতে দেখা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দলের নেতা নেত্রীদের। হঠাৎ করে তাদের কাছে সিভি আনন্দ বোস এত ভালো হয়ে গেল কেন? হঠাৎ করে তার প্রতি এত কেন প্রশংসা সূচক বাক্য প্রয়োগ করতে শোনা যাচ্ছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে? আসলে এই সমস্ত কিছুই যে রাজনীতির খেলা, তা বুঝতে বাকি নেই বিরোধীদের। কারণ যিনি রাজ্যপাল হয়ে আসছেন, তিনি এই সরকারের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন, যার আশঙ্কায় এখন থেকেই ছটফট করছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই কারণেই অতীতের রাজ্যপালের থেকে ভালো ছিলো বলে এখন তার পক্ষ নিয়ে একটা কুম্ভিরাশ্রু ফেলার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।
সম্প্রতি হঠাৎ করেই খবর পাওয়া যায় যে, পশ্চিমবঙ্গের যিনি রাজ্যপাল ছিলেন, সেই সিভি আনন্দ বোস দিল্লিতে গিয়ে পদত্যাগ করেছেন। এখন সেই পদত্যাগ নিয়েও রাজনীতি করতে শুরু করেছে এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল ধর্ণা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, ভয় দেখিয়ে নাকি সিভি আনন্দ বোসকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। আর এখানেই সবথেকে বড় প্রশ্নটা উঠছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হঠাৎ করে এত দরদ কেন উথলে পড়ছে এই সিভি আনন্দ বোসের প্রতি? একসময় তো এই আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে তাই বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে এখন তার এত প্রশংসাসূচক বাক্য কেন শুনতে পাওয়া যাচ্ছে? আর সেই নিয়েই এবার মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এদিন সিভি আনন্দ বোসকে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই মুখ্যমন্ত্রী এক সময় সিভি আনন্দ বোস সম্পর্কে বলেছিলেন যে, যতদিন উনি রাজ্যপাল আছেন, ততদিন তিনি রাজভবনে পর্যন্ত ঢুকবেন না। রাজ্যপালকে নিয়ে নাকি, তার চরিত্র সম্পর্কে নাকি তার প্রশ্ন আছে। আজকে সেই রাজ্যপাল সরে গিয়েছে কেন, সেই নিয়ে তৃণমূল অশ্রু বিসর্জন করছে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন, নতুন যিনি রাজ্যপাল হয়ে আসছেন, অর্থাৎ আরএন রবি, তিনি অন্য ধাতুতে গড়া একজন মানুষ। তার কাছে কোনো রকম চালাকি এই তৃণমূল সরকার করতে পারবে না। কিভাবে এই তৃণমূলকে টাইট দিতে হয়, তাই এই প্রাক্তন আইপিএস অফিসার খুব ভালো মতই জানেন। আর সেই আতঙ্কেই এখন যে সিভি আনন্দ বোস সম্পর্কে যা প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই প্রাক্তন রাজ্যপালই তার কাছে অত্যন্ত ভালো হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণে এখন তার পদত্যাগেও রাজনৈতিক কারণ সামনে এনে হাওয়ায় ভেসে থাকার চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস বলেই দাবি রাজনৈতিক সমালোচকদের।
