Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নজিরবিহীন নাটক সল্টলেকে! ইডি দফতর থেকে বেরোতেই প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে (CGO Complex) আজ বিকেলে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন নাটকীয় ঘটনা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)-র জেরা সামলে বেরোতেই রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। তদন্তে চরম অসহযোগিতা ও দুর্গাপূজার পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (Detective Department) তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। আজ বুধবার নির্ধারিত সূচি মেনেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে নথিপত্র নিয়ে হাজিরা দিয়েছিলেন চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন। কিন্তু তিনি যখন ভেতরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন, তখন ভবনের বাইরে অতন্দ্র প্রহরায় মোতায়েন ছিল কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল। বিকেল ৫টার পর তিনি সিজিও কমপ্লেক্স থেকে পা রাখতেই বাইরে অপেক্ষারত রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা তাঁকে আটকে সরাসরি প্রিজন ভ্যানে তোলেন। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে তাঁকে সরাসরি লালবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর (UNESCO) হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পর একটি সুনির্দিষ্ট প্রতারণার ছক কষা হয়। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে দুর্গাপূজার ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘ভিআইপি প্রিভিলেজড এন্ট্রি পাস’ চড়া মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। ইন্দ্রনীল সেনের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত ‘মাস আর্ট’ (Mass Art) নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম এই দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দাদের অনুমান, ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর পাস বিক্রি করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটানো হয়েছে। মধ্য কলকাতার বউবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা নির্দিষ্ট এফআইআর (FIR)-এর ভিত্তিতেই প্রথম মামলা রুজু করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীতে এর সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মানি লন্ডারিং বা আর্থিক তছরুপের দিকটি যুক্ত থাকায় সমান্তরালভাবে ইডি-ও (Prevention of Money Laundering Act) তদন্তে নামে।

গ্রেফতারি এড়াতে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁর রক্ষাকবচের আবেদন স্পষ্ট খারিজ করে দেয়। এরপর তিনি দেশের শীর্ষ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও সেখানেও ধাক্কা খেতে হয়। গতকাল (২৭ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোয় কোনো অন্তর্বর্তী আইনি স্বস্তি পাননি তিনি। আর সেই সুযোগেই আজ আদালতের রক্ষাকবচহীন প্রাক্তন মন্ত্রীকে তদন্তে অসহযোগিতার কারণে সিজিও-র গেট থেকেই পাকড়াও করল লালবাজার।

Exit mobile version