Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

থানার বাইরে তুমুল গণবিক্ষোভ! হেলমেট পরা তৃণমূলের নির্মল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম-কাদা-জুতো!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের দেহ তড়িঘড়ি সৎকার এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া পানিহাটির প্রভাবশালী প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং তাঁর সহযোগী তথা প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে আজ নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়াল। ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করার পর আজ, শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) যখন তাঁদের খড়দহ থানা থেকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার জন্য বের করা হচ্ছিল, তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাইরে জমা হওয়া উত্তেজিত জনতা।পুলিশের কড়া সুরক্ষাবলয় এবং মাথায় হেলমেট পরিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ক্ষুব্ধ মানুষের হাত থেকে ধেয়ে আসে একের পর এক ডিম, কাদা এবং জুতো।

২০২৪ সালের আরজি কর কাণ্ডের পর মৃত চিকিৎসকের বাবার করা নতুন এফআইআর (FIR)-এর ভিত্তিতে খড়দহ থানা এই তদন্তে নামে। অভিযোগ, তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে পানিহাটি শ্মশানে নির্যাতিতার দেহ অত্যন্ত তড়িঘড়ি সৎকার করিয়েছিলেন, যাতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সুযোগ না থাকে। এই মামলার জেরেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্ত নির্মল ঘোষকে।আজ খড়দহ থানার লক-আপ থেকে যখন নির্মল ঘোষকে প্রিজন ভ্যানে তোলার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখনই গণবিক্ষোভের আঁচ টের পায় পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের তরফ থেকে নির্মল ঘোষের মাথায় একটি হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু থানা থেকে বের হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাইরে জমা হওয়া মানুষ।পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা নির্মল ঘোষের দিকে তেড়ে যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে অনবরত ছিটকে আসতে থাকে ডিম ও কাদা। এমনকি ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর দিকে জুতো ও চটি ছুঁড়ে মারে এবং প্রিজন ভ্যানে তোলার মুহূর্তে ভিড়ের মধ্য থেকে বেশ কয়েকটি কিল এবং লাথিও গিয়ে পড়ে তাঁর গায়ে। একই রকম তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁর সহযোগী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কেও।

খড়দহ থানার পর ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতেও একই রকম অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় ধৃতদের। আদালত চত্বরে আগে থেকেই উপস্থিত থাকা বিক্ষোভকারীরা নির্মল ও সঞ্জীবকে দেখা মাত্রই “চোর চোর” স্লোগান দিতে শুরু করেন। ক্ষুব্ধ আইনজীবীদের একটা বড় অংশও এই বিক্ষোভে শামিল হন। বিগত জমানার প্রভাবশালী এই নেতার ওপর সাধারণ মানুষের এই তীব্র ক্ষোভ ও ‘ডিম-কাদা’ নিক্ষেপের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক আবহে বাংলায় অপরাধের বিরুদ্ধে জনমানসে কতটা ক্ষোভ জমা হয়ে রয়েছে।

Exit mobile version