Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

টিকিট হারিয়েছেন আগেই, এবার স্বামী এনআইএ-র জালে! অপরূপা পোদ্দারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি বিশ বাঁও জলে?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সময়টা বোধহয় একেবারেই ভালো যাচ্ছে না আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের (আফরিন আলি)। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের টিকিট হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে কিছুটা কোণঠাসা ছিলেন। আর আজ, ২০২৬-এর এই হাই-ভোল্টেজ সকালে স্বামী শাকির আলির এনআইএ-র (NIA) হাতে গ্রেফতারি যেন তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ডেকে আনল। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এই জোড়া ধাক্কার পর মমতাদেবীর দলে অপরূপার অবস্থান ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি এবার সত্যিই খাদের কিনারায়?

২০১৪ এবং ২০১৯ সালে পরপর দু’বার তৃণমূলের টিকিটে আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্র থেকে দিল্লির সংসদে গিয়েছিলেন অপরূপা পোদ্দার। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দল তাঁর ওপর আর ভরসা রাখেনি। টিকিট না পেয়ে সেই সময় দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। যদিও পরে মানভঞ্জন হয় এবং নিজেকে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সৈনিক বলেই দাবি করেন অপরূপা। কিন্তু টিকিট হারানোর পর থেকেই হুগলি জেলার মূল স্রোতের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব অনেকটাই কমে আসছিল।

শাকির আলি কেবল অপরূপার স্বামীই নন, রিষড়ার রাজনীতিতে অপরূপার ক্ষমতার অন্যতম প্রধান খুঁটিও ছিলেন। আজ ঘরের ভেতর থেকে স্বামীকে যেভাবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তুলে নিয়ে গেলেন, তা অপরূপা পোদ্দারের সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনামে এক বিরাট আঘাত। দলের অন্দরের খবর, গত কয়েক বছর ধরে এমনিতেই জেলা নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে অপরূপা ও তাঁর স্বামীর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে স্বামীর বিরুদ্ধে ‘সাম্প্রদায়িক হিংসা উস্কানি’র মতো মারাত্মক অভিযোগ ওঠায়, দল অপরূপার থেকে আরও দূরত্ব তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণত এই ধরনের কেন্দ্রীয় এজেন্সির গ্রেফতারিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দেগে দেয়। কিন্তু রিষড়ার রামনবমী হিংসার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর মামলায় দলের একজন প্রাক্তন সাংসদের পরিবার সরাসরি জড়িয়ে পড়ায় অস্বস্তি বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরের। এখন দেখার, এই চরম রাজনৈতিক সংকটের দিনে অপরূপা পোদ্দার কীভাবে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে আড়াল করেন, নাকি এই ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয়।

Exit mobile version