Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“ওকে অবিলম্বে দল থেকে বের করা হোক!”—বিস্ফোরক তথাগত রায়, এবার খোদ বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধেই চরম যুদ্ধ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের নেতাজি-বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এবার খোদ গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেল। নেতাজিকে অপমানের অভিযোগে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নেওয়ার পর, এবার তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তুললেন বিজেপির প্রবীণ মুখ তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়। দলীয় সাংসদের এমন মন্তব্য নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনন্ত মহারাজকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। তথাগত রায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজ্য তো বটেই, কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের ওপরও এখন অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবল চাপ তৈরি হলো।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনন্ত মহারাজের কড়া সমালোচনা করে তথাগত রায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই মহারাজ যে কথাগুলো বলছে, এগুলো তো শুধু আপত্তিজনক কথা নয়, চরম আপত্তিজনক কথা নয়, এগুলো মূর্খের মতো কথা।” এখানেই শেষ নয়, অনন্ত মহারাজের ইতিহাস চেতনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রবীণ এই নেতা আরও যোগ করেন, “উনি এত মূর্খ যে এভিডেন্স (প্রমাণ)-এর মানে পর্যন্ত জানেন না। রাজ্য সরকার ওঁর বঙ্গবিভূষণ কেড়ে নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওঁর বিরুদ্ধে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

অনন্ত মহারাজকে দল থেকে ছেঁটে ফেলার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন তথাগত রায়। তিনি স্পষ্ট দাবি জানান, “প্রথম যেটা করা উচিত, ওকে দল থেকে বার করে দেওয়া উচিত, এই অনন্ত মহারাজকে। অনন্ত মহারাজকে তো বিজেপির সদস্য করা হয়েছে, সেই সদস্য পদ খারিজ করে দেওয়া উচিত।” রাজনৈতিক মহলের মতে, তথাগত রায়ের মতো একজন প্রবীণ নেতার মুখ থেকে নিজের দলেরই বর্তমান সাংসদের বিরুদ্ধে এমন কড়া আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আজাদ হিন্দ ফৌজ এবং দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর থেকেই চরম কোণঠাসা গ্রেটার কোচবিহারের এই নেতা। একদিকে ফরোয়ার্ড ব্লকসহ বিভিন্ন সংগঠনের থানা-অভিযোগ, অন্যদিকে চন্দ্র কুমার বসুর মতো নেতাজি পরিবারের সদস্যের আইনি হুঁশিয়ারি—আর এবার খোদ নিজের দলের অন্দর থেকেই বহিষ্কারের দাবি। সব মিলিয়ে অনন্ত মহারাজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তাঁর রাজ্যসভার সাংসদ পদ বজায় থাকা নিয়ে এখন এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়ে গেল।

Exit mobile version