প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক মারাত্মক চক্রের পর্দাফাঁস হলো পশ্চিমবঙ্গে। বিহার থেকে ভুয়ো ডাক্তারি সার্টিফিকেট (Fake Medical Certificate) নিয়ে এসে এ রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দাপিয়ে চাকরি করার অপরাধে হাতেনাতে ধরা পড়লেন চিকিৎসকরা। বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের একটি গোপন চিঠি নবান্নে পৌঁছাতেই শেষ হয়ে গেল জালিয়াতদের সব জারিজুরি। এই জালিয়াতি সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপ নিয়ে ২ জন চিকিৎসককে চাকরি থেকে সরাসরি বরখাস্ত করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের (CMOH) দফতর থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় কর্মরত চুক্তিভিত্তিক দুই চিকিৎসক শেখ ইউনুস হাসান ও উত্তম মাইতিকে তৎক্ষণাৎ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যের চিকিৎসা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এই বড়সড় জালিয়াতির সূত্রপাত প্রতিবেশী রাজ্য বিহার থেকে। বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয় যে, বাংলার মোট ৫ জন চিকিৎসকের সংগৃহীত সার্টিফিকেট সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং জাল। বিহারে রেজিস্ট্রেশনের কোনো বৈধ নথিই তাঁদের নেই। এই ৫ জন ভুয়ো চিকিৎসকের মধ্যে ৩ জনই কর্মরত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। যার মধ্যে ২ জন দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলায় এবং ১ জন ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলায় সরকারি ডাক্তার হিসেবে চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন। বিহার থেকে সবুজ সংকেত মিলতেই নবান্নের নির্দেশে কড়া অ্যাকশনে নামে জেলা স্বাস্থ্য দফতর।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক শেখ ইউনুস হাসান ও উত্তম মাইতিকে চাকরি থেকে তাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি, ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলার আর এক সরকারি চিকিৎসক হাফিজুর হালদারের বিরুদ্ধেও চরম পদক্ষেপ নিতে চলেছে স্বাস্থ্য ভবন। যেহেতু হাফিজুর হালদার স্থায়ী বা নিয়মিত সরকারি কর্মী, তাই নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও বরখাস্তের আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২ জন ভুয়ো ডাক্তারের খোঁজ পেতেও তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন নিয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না এবং এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বড় হাত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
