প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের রাউন্ড যত এগোচ্ছে, ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ ততই এক রোমাঞ্চকর এবং অবিশ্বাস্য মোড় নিচ্ছে। একেই বোধহয় বলে রাজনীতির অমোঘ নিয়তি! দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে দ্বাদশ রাউন্ডের গণনা শেষ হতেই যে পরিসংখ্যান সামনে এল, তা দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ রাজনৈতিক মহলের। কোনো টানটান উত্তেজনা নয়, বরং গণনাকেন্দ্রের ভেতর থেকে রাউন্ড যত বাড়ছে, রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের রক্তচাপ ততটাই বাড়িয়ে দিচ্ছে পদ্ম-শিবিরের এই অভূতপূর্ব ও একতরফা জয়যাত্রা।
১২ নম্বর রাউন্ডের ইভিএম গণনা শেষ হতেই দেখা যাচ্ছে, ফলতায় নতুন শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এক বিশাল এবং ধরাছোঁয়ার বাইরের ব্যবধানে নিজেদের শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। বিজেপির ঝুলিতে এখন জমা পড়েছে রেকর্ড ৮০,৩৯৮ টি ভোট। অন্যদিকে, লড়াইয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম, তাদের প্রাপ্ত ভোট ২৭,৫৪৫। অর্থাৎ, এই রাউন্ডের শেষেই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৫২,৮৫৩ ভোটের এক আকাশছোঁয়া লিড নিয়ে জয়ের সুনিশ্চিত গন্ধ পাচ্ছে বিজেপি শিবির।
কিন্তু এই রাউন্ডের আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে তালিকার নিচের দিকে, যা দেখে খোদ বিরোধী শিবিরের চাণক্যদেরও কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। যে ফলতাকে একসময় ঘাসফুল শিবিরের অভেদ্য দুর্গ বলে মনে করা হতো, সেখানে মাত্র ৪,০৪৬ টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে আছড়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস! এমনকি ৬,৯১৮ ভোট পেয়ে তাদের ওপরে তৃতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে কংগ্রেস। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি রাউন্ডের পরাজয় নয়, বরং ক্ষমতার হাতবদলের পর রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের জনভিত্তি কতটা আলগা হয়েছে, এই পরিসংখ্যান তারই এক জলজ্যান্ত ও ঐতিহাসিক প্রমাণ। আইনি এক্তিয়ারের মধ্যে দাঁড়িয়েই বলা যায়, সাধারণ মানুষের এই নীরব প্রত্যাখ্যান বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকেই জনসমক্ষে এনে দিয়েছে।
ফলতার এই অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর সাফল্যের নেপথ্যে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি তথা শাসকদলের হেভিওয়েট মুখ শুভেন্দু অধিকারীর নিখুঁত ও দূরদর্শী রাজনৈতিক ব্লু-প্রিন্টকে সাধুবাদ জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো একসময়ের কঠিন রাজনৈতিক জমিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে বুথ স্তরের কর্মীদের চাঙ্গা করেছিলেন এবং আইনি ও সাংবিধানিক গণ্ডির মধ্যে থেকে একের পর এক জনসভা করে মানুষের মনে বিশ্বাস জাগিয়েছিলেন, আজ ইভিএমের প্রতিটি রাউন্ডে তারই প্রতিফলন ঘটছে। শুভেন্দুর এই দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রমাণ করে দিল, সঠিক রণকৌশল থাকলে রাজনৈতিক দুর্গেও ফাটল ধরানো সম্ভব। ১২ তম রাউন্ডের এই সাসপেন্স ভাঙা ফলাফল কেবল ফালতার সমীকরণ নয়, বরং সমগ্র রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক দিশা নির্ধারণ করে দিচ্ছে। পদ্ম-শিবিরের এই বিপুল জয়জয়কার বাংলার বুকে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্থানকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করলো।
