প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এককালে যে মাটিকে ‘দুর্ভেদ্য দুর্গ’ বলে আস্ফালন করা হতো, অবাধ ও সুষ্ঠু জনমত প্রকাশের সুযোগ পেতেই তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল (Falta Repoll Result 2026) কেবল একটি আসনের জয় নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ‘ব্যালট বিপ্লব’। সমস্ত রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও পেশীশক্তিকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ফলতায় ইতিহাসের বৃহত্তম জয় ছিনিয়ে নিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ১,০৯,০২১ (১ লক্ষ ৯ হাজার ২১) ভোটের এক অভাবনীয় ও রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিধানসভায় পা রাখছেন।
গত ২৯ এপ্রিলের নির্বাচনে ইভিএম কারচুপি ও বুথ জ্যামের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর, নির্বাচন কমিশন ফলতার ২৮৫ টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের কড়া নির্দেশ দেয়। গত ২১ মে প্রায় ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় যখন এলাকার মানুষ নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ফলতাবাসী ভেতরে ভেতরে পরিবর্তনের জন্য কতটা উন্মুখ ছিলেন। রেকর্ড ৮৭ শতাংশের বেশি ভোটদানই প্রমাণ করেছে যে, সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ব্যালট বাক্সে আছড়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ECI) সরকারি তথ্য অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটের পরিসংখ্যান: বিজেপি (দেবাংশু পণ্ডা): ১,৪৯,৬৬৬ ভোট (বিপুল ভোটে জয়ী)সিপিআই(এম) (শম্ভুনাথ কুড়মি): ৪০,৬৪৫ ভোট (দ্বিতীয় স্থান) কংগ্রেস (আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা): ১০,০৮৪ ভোট (তৃতীয় স্থান) তৃণমূল কংগ্রেস (জাহাঙ্গীর খান): ৭,৭৮৩ ভোট (চতুর্থ স্থান)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটগ্রহণের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের আকস্মিক ও নাটকীয় রণে ভঙ্গ দেওয়ার ঘোষণাই শাসকদলের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়েছিল। পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই তৃণমূলের এই ময়দান ছাড়া সাধারণ ভোটারদের বিজেপির দিকে আরও বেশি মেরুকরণ করতে সাহায্য করেছে। ফলস্বরূপ, যে অঞ্চলকে এতদিন বিশেষ রাজনৈতিক ‘মডেল’-এর আঁতুড়ঘর বলে প্রচার করা হতো, সেখানে তৃনমূলের প্রার্থী জামানত হারিয়ে চতুর্থ স্থানে গিয়ে ঠেকেছেন। ভোট গণনাকেন্দ্রে এদিন তৃণমূলের কোনো এজেন্টের উপস্থিত না থাকাটাই প্রমাণ করে দেয় যে দলগতভাবে তারা আগেই মানসিক পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছিল।
এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর বিরোধী শিবিরের অহংকারকে নিশানা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ আসলে এক বড়সড় ফাঁপা বেলুন ছিল, যা ফলতার দেবতুল্য জনতা আজ ফুটো করে দিয়েছেন। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, এই বিপুল জনসমর্থনের ঋণ বিজেপি আগামী দিনে ফলতার সার্বিক উন্নয়ন ও প্রগতির মাধ্যমে সুদে-আসলে ফিরিয়ে দেবে। ফলতার এই মহাজয়ের ওপর ভর করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়াল ২০৮-এ, যা রাজ্যের আগামী দিনের শাসন ক্ষমতার সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ।
