প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআর প্রক্রিয়ার একেবারে প্রথম থেকেই কড়া নজর রেখেছে ভারতবর্ষের জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে রাজনীতি হয়, যেভাবে এখানকার আধিকারিকদের ভয় দেখায় তৃণমূল কংগ্রেস, সেই সম্পর্কে কমিশনের কাছে পর্যাপ্ত খবর ছিলো। তাই এবার সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যকে গ্রুপ বি অফিসার দিতে বলা হলেও তা নিয়ে বেশ কিছু সন্দেহজনক জায়গা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। আর তাই নিজেদের সংশয় দূর করতে এবার রাজ্যকে ফের চিঠি দিলো নির্বাচন কমিশন। যেখানে ৩০ শতাংশ অফিসারের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর এই খবর সামনে আসতেই জল্পনা তৈরি হচ্ছে যে, তাহলে কি এবার রাজ্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন?
এই রাজ্যে প্রশাসনিক আধিকারিকদের দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন রকম অবৈধ কাজ করায় বলে এতদিন ধরে দাবি করে এসেছিল বিরোধীরা। গতকাল নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের বেশ কিছু জেলার জেলাশাসককে সতর্ক করা হয়েছে। এমনকি তাদের নির্দেশ অমান্য করার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পর্যন্ত দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আর এবার আরও বড় জায়গায় হাত দিয়ে দিলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তারা বুঝিয়ে দিলো যে, কোনোভাবেই নির্দেশ অমান্য করা যাবে না। আর এই নির্দেশ অমান্য করলেই রাজ্যের কপালে যে বিপদ অপেক্ষা করছে, তা কমিশনের এই সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এবার কি বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন?
বলা বাহুল্য, সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে মাইক্রো অবজারভারদের বিষয়ে রাজ্যকে গ্রুপ বি অফিসার দিতে বলা হয়। সেই মত রাজ্য ৮৫০৫ জন অফিসার দিয়েছে বলে খবর। কিন্তু প্রথমদিনেই সেই তালিকা প্রকাশ করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দাবি করেছিলেন, এখানে অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদেরও রাখা হয়েছে। এমনকি যাদের নাম রয়েছে, তারা সকলে গ্রুপ বি অফিসার নয়। ফলে এই নিয়ম লংঘন করেছে রাজ্য সরকার। আর সেই ব্যাপারেই রাজ্যকে চিঠি দিয়ে ৩০ শতাংশ নামের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনও সেই তালিকা খতিয়ে দেখে বুঝতে পেরেছে যে, এখানে বড় মাপের ঘাপলা রয়েছে। আর তাই গোটা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতামূলকভাবে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের রাজ্যকে চিঠি দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন রাজ্য যদি কমিশনের এই চিঠির পরেও পদক্ষেপ না গ্রহণ করে এবং ঢিলেঢালা মনোভাব নিয়ে কাজ করে, তাহলে তারপর কমিশন কি পদক্ষেপ গ্রহণ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।
