Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ফাইনাল ভোটার লিস্ট প্রকাশের আগেই ফের সুপ্রিম কোর্টে মমতা! পাত্তাই দিলো না আদালত?

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কোনোভাবেই আর স্থির থাকতে পারছে না এসআইআরের আতঙ্কে। সম্প্রতি তিনি কার্যত মেনেই নিয়েছেন প্রকাশ্য সভা থেকে যে, এসআইআরে প্রচুর মানুষের নাম বাদ যাচ্ছে। আর এই এসআইআরের প্রথম দিন থেকেই বিরোধিতা করা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবেই হোক এই প্রক্রিয়াকে বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত আদালতের দরজায় তিনি নিজেই পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত কোনোভাবেই চায়নি এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাক। তাই তথ্যগত অসংগতির যে সমস্ত বিষয় উঠে এসেছে, সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু তারপরেও অস্থিরতা এবং অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে এই রাজ্যের শাসক দলের। কারণ তারা জানে, যেভাবে প্রচুর অবৈধ ভোটারের নাম বাদ যাচ্ছে, তাতে তারা আর ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে না। আর সেই কারণে আবারও আজ সুপ্রিম কোর্টে চলে গিয়েছে রাজ্য। তবে সেখানে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী যেভাবে তদবির করেছেন, তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে, আদালত কিন্তু মোটেই গোটা বিষয়টিকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। এক্ষেত্রে বারবার করে এই একটি রাজ্যের বিষয়ে উঠে আসা এবং তারা বারবার করে সুপ্রিম কোর্টে চলে যাওয়া এবং বিভিন্ন বায়নাক্কা করায় সুপ্রিম কোর্টও যে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট, তা আজ আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের এসআইআরের বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক শুনানি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট তথ্যগত অসঙ্গতির যে বিষয় রয়েছে, সেক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে যে, বিচার বিভাগ এক্ষেত্রে কাজ করবে। এমনকি জুডিশিয়াল অফিসাররা যা নির্দেশ দেবে, সেটাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলে গণ্য করা হবে। কিন্তু তারপরেও এই রাজ্য সরকারের অস্বস্তি কমছে না। সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়ে দেওয়ার পরেও আজ আবারঔ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেষ্টা করেছিলেন যে, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপিত করতে। যাতে তিনি এই অবৈধ ভোটারদের রেখে দিতে পারেন, তার জন্য আবারও সুপ্রিম কোর্টে বায়নাক্কা করার চেষ্টা করেছিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেই খোঁচা দিচ্ছে বিরোধীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সমস্ত বায়না যে সুপ্রিম কোর্ট শোনেনি, তা স্পষ্ট হয়ে গেল।

সূত্রের খবর, এদিন সুপ্রিম কোর্টের আবার এসআইআরের বিষয় নিয়ে তদবির করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। যিনি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী বলেই পরিচিত। যেখানে তিনি বলেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও জুডিশিয়াল অফিসারদের জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এমনকি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে না জানিয়ে নির্বাচন কমিশন এই নির্দেশিকা জারি করেছে। এক্ষেত্রে তার যুক্তি ছিল যে, এসডিওদের পক্ষ থেকে যে ডোমেসাইল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণ করতে বারণ করা হচ্ছে। আর কপিল সিব্বলের এই যুক্তি শেষ পর্যন্ত পাত্তাই দিল না সুপ্রিম কোর্ট। যেখানে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, “প্রতিদিন এভাবে আদালতে এলে তো আমাদের পক্ষে মুশকিল। আমাদের নির্দেশ খুব স্পষ্ট। বিচারকরা জানেন যে, তাদের কি করতে হবে।” অর্থাৎ বারবার করে পশ্চিমবঙ্গের এই এসআইআর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যেভাবে সুপ্রিম কোর্টে ছুটে যাচ্ছে রাজ্য, তাতে এবার কিন্তু আর গোটা বিষয়ে জটিলতা চাইছে না শীর্ষ আদালত। আর সেই কারণে আজ আবারও একটা বিষয় নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে গোটা ব্যবস্থাকে ভন্ডুল করতে যতই রাজ্য চেষ্টা করুক, সুপ্রিম কোর্ট তাতে যে পাত্তাই দিলো না, তা স্পষ্ট হয়ে গেল। আর এর ফলে আরও চাপে পড়ে গেলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকার বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Exit mobile version