Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মাঝরাতে ফিরহাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী! উত্তপ্ত ভবানীপুর: সাতসকালে পথে নেমে চরম হুঁশিয়ারি মমতার!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের সকালে নজিরবিহীন উত্তেজনা খাস কলকাতায়। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা কলকাতা বন্দরের প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে মাঝরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘হানা’ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ঘটনা প্রবাহের গুরুত্ব বুঝে সকালেই চেতলায় পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই অত্যন্ত কড়া ভাষায় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।

তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, গত রাতে ফিরহাদ হাকিমের অনুপস্থিতিতে তাঁর বাড়িতে আচমকাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা উপস্থিত হন। সেই সময় বাড়িতে ফিরহাদের স্ত্রী এবং কন্যারা ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “ববির (ফিরহাদ) স্ত্রী ছিল বাড়িতে। মাঝরাতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। মহিলারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র ভয় দেখানোর জন্য এবং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

ভবানীপুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র। ভোটের দিন সকালে এই কেন্দ্রের অন্তর্গত এলাকায় ফিরহাদের বাড়িতে বাহিনীর সক্রিয়তা ভোটারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ নিজে বুথে বুথে ঘোরার ঘোষণা করেছেন। অতীতে দেখা গিয়েছে, যখনই তিনি নিজে রাস্তায় নেমেছেন, তখনই তৃণমূল কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। বাহিনীর এই ‘তৎপরতা’কে তিনি সাধারণ মানুষের সামনে ‘হেনস্তা’ হিসেবে তুলে ধরে সহমর্মিতা আদায়ের কৌশল নিয়েছেন। যেহেতু নির্বাচন কমিশন বর্তমানে নিরাপত্তার দায়িত্বে, তাই এই ঘটনা নিয়ে কমিশনের কাছে নালিশ জানাতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাহিনীর পক্ষ থেকে এটিকে নিয়মিত তল্লাশি বলা হলেও, সময়ের গুরুত্ব বিচার করে বিষয়টি নিয়ে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সকাল থেকেই মেজাজে রয়েছেন মমতা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “আজ আমি নিজে বুথে বুথে ঘুরব। দেখব কে কী করে।” বিরোধীদের দুর্ভেদ্য দুর্গ ভাঙার চেষ্টার মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘স্ট্রিট ফাইট’ নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই নির্বাচনে।

এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি ময়দানে নামা ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে। চেতলা থেকে ভবানীপুর—মুহূর্তে মুহূর্তে বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ।

Exit mobile version