প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যেমন কর্ম, ঠিক তেমনই ফল! একেই বোধহয় বলে প্রকৃতির ‘মধুর প্রতিশোধ’। রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পর কালীঘাটের পিসি-ভাইপোর দুর্গে যে ধস নেমেছে, তা এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। এবার সেই ভাঙনের ক্ষত আরও গভীর করে লোকভবন ও বিধানসভার অলিন্দ থেকে ভেসে আসছে এক বিস্ফোরক তথ্য। রাজনৈতিক মহলের জোরালো জল্পনা, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ‘ছায়াসঙ্গী’ তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবার বিধানসভার সবচেয়ে শক্তিশালী কমিটি, অর্থাৎ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান হতে পারেন।সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিরোধী দলনেতার সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের সাক্ষাৎ এবং বিধানসভায় বসার আসন বদল এই জল্পনাকে এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রের চিরন্তন রীতি অনুযায়ী, বিধানসভার আয়-ব্যয়ের হিসাব পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত এই পিএসি (PAC) চেয়ারম্যানের পদটি সবসময় বিরোধী দলই পেয়ে থাকে। কিন্তু বিগত দিনে যখন তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল, তখন সংসদীয় রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে তৎকালীন তৃণমূল প্রশাসন কী করেছিল, তা রাজ্যবাসী ভোলেনি। খাতায়-কলমে বিরোধী দলের (বিজেপি) প্রতীকে জেতা মুকুল রায় কিংবা সুমন কাঞ্জিলালদের পিএসি চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসিয়ে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক নজির তৈরি করা হয়েছিল।আজ সময় বদলেছে। রাজ্যে এখন নতুন জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, অতীতে ক্ষমতা থাকাকালীন তৃণমূল যে কৌশলের রাস্তায় হেঁটেছিল, ঠিক সেই সমীকরণেই এবার খোদ তৃণমূল নেতৃত্বকে চাপে ফেলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে। তৃণমূলের অন্দরে দূরত্ব বাড়িয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাদের ‘নতুন তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দেওয়া ফিরহাদ হাকিমকে এবার বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবে পিএসি-র শীর্ষ চেয়ারে বসানোর একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে বিধানসভা সূত্রে খবর।
সূত্রের দাবি, গত ৫ জুন কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই মমতার সঙ্গে স্পষ্ট দূরত্ব বজায় রাখছেন ফিরহাদ হাকিম। কালীঘাটের পরিবারতন্ত্র এবং ‘ভাইপো’র খবরদারির বিরুদ্ধে দলের অন্দরে যে ক্ষোভ এতদিন জমেছিল, ফিরহাদ এখন সেই বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ। সম্প্রতি ঋতব্রত-সন্দীপনদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক এবং বিধানসভায় প্রথা ভেঙে বিরোধী বেঞ্চের দিকে বসা তারই বড় প্রমাণ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলের নিজেদের তৈরি করা নিয়মের জালেই এবার তারা নিজেরা কোণঠাসা। ফিরহাদ হাকিমকে পিএসি চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দিয়ে একদিকে যেমন আইনি ও প্রযুক্তিগত দিক সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে, তেমনই খাতায়-কলমে তৃণমূল বিধায়ককে এই পদে বসিয়ে কালীঘাটের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি বোদ্ধাদের। সব মিলিয়ে, ‘দিদি’র হাত ছাড়ার পর ফিরহাদের এই সম্ভাব্য পদপ্রাপ্তির জল্পনা এখন রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়। নিজের তৈরি অস্ত্রে নিজেই ঘায়েল হওয়া একেই বলে! আগামী দিনে বিধানসভার এই নতুন সমীকরণ আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পায় কিনা, সেটাই এখন দেখার।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সূত্র এবং বিধানসভার সাম্প্রতিক অলিন্দের খবরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।
