Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মেয়রের কুর্সি ছাড়লেন ববি: নবান্ন হাতছাড়া হওয়ার পর এবার কি কলকাতার পুরবোর্ডেও তাসের ঘরের মতো মহাধস?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শিরোনামে চোখ রাখলেই পিলে চমকে উঠবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। নবান্নের ক্ষমতা হারানোর পর এবার খাস কলকাতার পুরভবনেও চূড়ান্ত ধস নামল! দীর্ঘ টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কলকাতা পুরসভার (KMC) মেয়রের কুর্সি ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম (ববি)। বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূল’ গঠন নিয়ে দলের চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ভাঙনের আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। বিদায়ী নেত্রী তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুরও করেছেন। ক্ষমতা হারিয়ে প্রাক্তন শাসক দল যখন খাদের কিনারায়, ঠিক তখনই ববি হাকিমের এই সিদ্ধান্ত। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে, কার ইশারায় এই হেভিওয়েটকে সরতে হলো, আসুন পরতে পরতে তার একটু ‘পোস্টমর্টেম’ করা যাক।

এখন প্রশ্ন: এই ইস্তফা কি নেহাতই ‘সম্মানের সঙ্গে নিষ্কৃতি’, নাকি নবান্ন হাতছাড়া হওয়ার পর তাসের ঘরের মতো পুরবোর্ড ভেঙে পড়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাক্কা? মেয়রের পদত্যাগের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে যেভাবে দাপুটে কাউন্সিলর তারক সিংয়ের মতো নেতারা দলবল নিয়ে ইস্তফা দিলেন, তা কি আসলে প্রাক্তন প্রধানের ওপর থেকে বাকিদের অনাস্থার চূড়ান্ত সিগন্যাল ছিল না?পুরসভার টেবিল থেকে একাধিক ফাইলের আচমকা গায়েব হওয়া এবং বেআইনি নির্মাণ ও জমি দখল সংক্রান্ত যে সমস্ত গুরুতর অভিযোগ উঠছিল, এই ইস্তফা কি সেই আইনি ফাঁস থেকে বাঁচার একটা কৌশলগত পশ্চাদপসরণ? তবে হ্যাঁ, আমাদের মনে রাখতে হবে যে যতক্ষণ না দেশের স্বাধীন আদালত এই সমস্ত অভিযোগকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করছে, ততক্ষণ এই সমস্তটাই কিন্তু অভিযোগের স্তরেই সীমাবদ্ধ।

কলকাতার পুরভবনের অলিন্দে কান পাতলে এখন শোনা যাচ্ছে তীব্র চাপা গুঞ্জন। গতকাল যখন একের পর এক বরো চেয়ারম্যান আর অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্যরা পদত্যাগ করছিলেন, তখনই দেওয়াল লিখনটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, নবান্ন হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতার যে চাবিকাঠি এতকাল ধরে আলিপুরের হেভিওয়েটদের হাতে ছিল, তা এক লহমায় আলগা হয়ে গেছে। যে কাউন্সিলররা এতদিন মেয়রের ইশারায় চলতেন, আজ তাঁরাই দল বেঁধে বিদ্রোহের সুর চড়াচ্ছেন। এ কি শুধুই পুরবোর্ডের ব্যর্থতার প্রতিবাদ, নাকি নতুন দিল্লির ‘সবুজ সংকেত’ পেয়ে পুরনো শিবিরের বিরুদ্ধে পা বাড়িয়ে রাখা— সেই ধোঁয়াশা কিন্তু ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে।

কলকাতার রাজপথে কান পাতলে এখন একটাই গুঞ্জন— ববি হাকিমের এই ‘মেয়রের কুর্সি’ ত্যাগ কি কলকাতার ক্ষমতা অলিন্দে এক বিশাল শূন্যতার সূচনা? ক্ষমতার অলিন্দে কোনো কিছুই কারণ ছাড়া ঘটে না। জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, এবং ববির এই ‘পদত্যাগ’ তাঁকে আগামী দিনে আইনি বা রাজনৈতিকভাবে কতটা স্বস্তিতে রাখে, তার উত্তর দেবে একমাত্র ভবিষ্যৎ। আপাতত কলকাতা পুরসভার ‘বড় চেয়ার’ ফাঁকা। আর ক্ষমতার অলিন্দে চলছে নতুন সমীকরণের মহড়া।

Exit mobile version