প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নবান্নে এখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপির নতুন সরকার। কুর্সি হারানোর পর পরাজিত ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য রাজপথে এসে পড়েছে। দল এখন আক্ষরিক অর্থেই আড়াআড়ি বিভক্ত— একদিকে অস্তিত্ব সংকটে ভুগতে থাকা ‘কালীঘাট পন্থী’ অংশ, আর অন্যদিকে বিধানসভায় সংখ্যাধিক্যের জোরে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্রোহী নব তৃণমূল’। এই চরম সংকটের আবহে এবার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলো বিধানসভার অন্দরে, যেখানে মূল চরিত্রে অবতীর্ণ হয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ (ববি) হাকিম।
যে ফিরহাদ হাকিমকে একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অনুগামী বলে মনে করা হতো, পরাজয়ের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। ভরাডুবির গ্লানি ও অভ্যন্তরীণ চাপ সহ্য করতে না পেরে গত ৫ জুন কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। আর তার ঠিক পরেই, বিধানসভার লবিতে ববি হাকিমকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করতে দেখা গেল বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ সন্দীপন সাহাকে। রুদ্ধদ্বার ঘরে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক চলল স্পিকারের দ্বারা স্বীকৃত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এমনকি বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের আসন বিন্যাসেও এখন ঋতব্রতর পাশেই জায়গা হয়েছে ববি হাকিমের। যে দলের রাশ একদা নেত্রীর একক নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেই দলেরই পোড়খাওয়া সিনিয়র নেতা এখন বিদ্রোহী বিধায়কদের ‘হাতেখড়ি’ দিচ্ছেন দেখে তৃণমূলের সামগ্রিক রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা নিয়েই সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির।
বিধানসভার অন্দরে যে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘নব তৃণমূল’ ব্লকের নতুন বিধায়কদের সংসদীয় রীতিনীতি ও প্রশ্নোত্তর পর্বের নিয়ম শেখানো। ববি হাকিম সেখানে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন। এই ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ করে বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট প্রশ্ন— কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির রাডারে থাকা এবং নানা সময়ে বিতর্কে নাম জড়ানো একজন নেতা এখন নতুন বিধায়কদের সংসদীয় আচারের পাঠ দিচ্ছেন! চোরের মায়ের মুখে নীতিবাক্যের মতো, নিজের রাজনৈতিক অস্বচ্ছতা আড়াল করতেই কি এখন ববি হাকিমকে এই ধরনের পাঠশালা খুলতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নই তুলছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, ববি হাকিমের এই নতুন ‘বিদ্রোহ-ভক্তি’র নেপথ্যে রয়েছে বিধানসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী কমিটি— পাবলিক অ্যাকাউন্টস… (PAC)-র চেয়ারম্যানের কুর্সি পাওয়ার কৌশল। যে পিএসি-র কাজ রাজ্য সরকারের খরচের হিসাব পরীক্ষা করা, তার মাথায় বসানোর তোড়জোড় চলছে এমন একজনকে, যাঁর অতীত কেরিয়ার জুড়েই বারবার স্বজনপোষণ ও আর্থিক অস্বচ্ছতার আঙুল তুলেছে বিরোধী শিবির। বিজেপির দাবি, ক্ষমতা হারিয়ে কালীঘাটের কোম্পানি থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে এই বিদ্রোহী নৌকায় চড়ে ববি হাকিম আসলে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ সুরক্ষিত করার শেষ খেলা খেলছেন।
বিজেপি প্রথম থেকেই বলে আসছিল, কাটমানি এবং সিন্ডিকেট রাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া এই দলটির কোনো আদর্শিক ভিত্তি নেই। ক্ষমতার অলিন্দ থেকে ছিটকে যেতেই এদের আসল রূপ সামনে চলে এসেছে। একদিকে যখন দলের আদি নেতারা নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়িতে ব্যস্ত, তখন ঋতব্রতর পাশে ববি হাকিম দাঁড়িয়ে রোজ সময় দিচ্ছেন বিদ্রোহীদের ক্ষুরধার করতে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল দলটা এবার পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে এবং এই অপশাসনের বিদায়ের পর বাংলায় পরিবর্তনের যে নতুন সূর্য উদিত হয়েছে, তার ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা এই ডুবন্ত জাহাজের সওয়ারিদের আর নেই।
(Disclaimer: এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত সমস্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, খোঁচা বা দাবি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সূত্রের নিজস্ব বক্তব্য। এর কোনো আইনি দায়ভার পোর্টাল কর্তৃপক্ষ বহন করে না। )
