প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অবশেষে রাজ্যে বাজতে চলেছে প্রথম পৌর নির্বাচনের দামামা। নবান্নে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম রাজ্যের জনগণ কোনো ভোট উৎসবে শামিল হতে চলেছেন। রাজ্য নির্বাচন কমিশন (SEC) আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা, হাওড়া ও বালি-সহ ৮টি বকেয়া পুরসভার ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ করার ডেডলাইন নিয়েছে। তবে কমিশন এখনও নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ও দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। এই মেগা লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখেই আজ, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬), সমস্ত সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নতুন বিজেপি জমানার এই প্রথম পৌর ভোট কেবল রাজনৈতিক দলগুলির ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণেরও এক বিরাট অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে।
বিগত বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) যেভাবে রাজ্যজুড়ে কার্যত রক্তপাতহীন এবং অবাধ ভোট করিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিল, তার ওপর ভর করেই রাজ্যে ঐতিহাসিক বদল এসেছে। এবার রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের আমলে প্রথম কোনো স্থানীয় পৌর ভোট পরিচালনা করতে গিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন (SEC) সেই একই স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারে কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়। অতীতে স্থানীয় পৌর ভোট বা পঞ্চায়েত ভোটে বারবার যে অশান্তি, বুথ দখল এবং হিংসার চেনা ছবি দেখা যেত, নতুন জমানার প্রথম ভোটে তা সম্পূর্ণ মুছে ফেলে রাজ্য কমিশনও জাতীয় স্তরের প্রশংসা কুড়িয়ে নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে।
বিজেপি শাসনে রাজ্যের প্রথম পৌর ভোটের তোড়জোড় শুরু হতেই সুর চড়াতে শুরু করেছে সিপিএম ও কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলি। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য ও প্রশ্ন একটাই—”বিগত তৃণমূল জমানার মতো এবারও কি বুথ দখল কিংবা শাসকদলের পেশিশক্তির দাপটে ভোট চুরি হবে? সাধারণ মানুষ কি নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন?” বিরোধীদের দাবি, নতুন সরকারের আমলেও যাতে ভোটের নামে কোনও প্রহসন না হয়, তার জন্য বুথ স্তরে কড়া নিরাপত্তা ও সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ইভিএম ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকে।
বিরোধীদের সমস্ত আশঙ্কার কড়া জবাব দিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী দাবি করেছে নতুন শাসকদল বিজেপি। বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, বাংলায় এখন আর সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি বা বুথ দখলের কোনো জায়গা নেই। নতুন সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি—বিগত সরকারের আমলের মতো কোনো রক্তপাত বা অশান্তি ছাড়াই এবার সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পৌর ভোট সম্পন্ন হবে এবং এর জন্য আলাদা করে কোনো কেন্দ্রীয় বাহিনীরও প্রয়োজন পড়বে না। রাজ্য পুলিশই অবাধ ও উৎসবের মেজাজে ভোট করাতে সম্পূর্ণ সক্ষম। আজকের ভার্চুয়াল বৈঠকে মূলত এই নতুন রাজনৈতিক আবহে আইনশৃঙ্খলার রূপরেখা এবং ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (Delimitation)-এর চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে জেলাশাসকদের সাথে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
