Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝির রহস্যমৃত্যু! বীরভূমের কুসুম্বা গ্রামের বাড়ি থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বীরভূমের রামপুরহাটে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝির অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো গোটা এলাকায়। আজ, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকালে, রামপুরহাট থানার কুসুম্বা গ্রামে নিজের বাপের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় (২৮) নামের ওই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। ঘটনার খবর পেয়েই রামপুরহাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

মৃতা বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় রামপুরহাটের ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে। নীহারবাবু সম্পর্কে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই হন। সেই সূত্রেই বৃষ্টি ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইঝি। প্রাথমিক তদন্তে এই আত্মহননের পেছনে জোড়া মানসিক অবসাদের তথ্য উঠে আসছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় বোলপুর আপার প্রাইমারি স্কুলে গ্রুপ-সি (Group-C) পদে অশিক্ষক কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু রাজ্য জুড়ে বহুল চর্চিত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পর হাইকোর্টের নির্দেশে যে হাজার হাজার ‘অবৈধ’ চাকরি বাতিল হয়েছিল, তার মধ্যে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত বছর চাকরি হারানোর পর থেকেই তিনি সামাজিকভাবে চরম মানসিক অবসাদ ও হীনম্মন্যতায় ভুগছিলেন।

কেবল পেশাগত জীবনই নয়, বৃষ্টির ব্যক্তিগত জীবনেও গত কয়েক বছর ধরে বড়সড় বিপর্যয় চলছিল। স্বামীর সঙ্গে তাঁর বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের (Divorce Case) মামলা চলছিল। একদিকে নিয়োগ দুর্নীতির কারণে চাকরি চলে যাওয়া, অন্যদিকে বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন—এই জোড়া ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে গত ৪-৫ বছর ধরেই তাঁর মানসিক চিকিৎসা চলছিল বলে পরিবার সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

আজ সকালে ঘরের ভেতর বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তাঁরাই পুলিশে খবর দেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, চরম মানসিক অবসাদ থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এটি স্রেফ মানসিক অবসাদজনিত আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও রহস্য বা প্ররোচনা রয়েছে, তা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে রামপুরহাট থানার পুলিশ। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

Exit mobile version