Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘টাকা নিয়েও দেননি পদ’! তৃণমূল কর্মীর বিস্ফোরক অভিযোগে খড়গপুরের বাড়ি থেকে পাকড়াও প্রাক্তন বিধায়ক অজিত মাইতি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শুক্রবার ভোররাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন তোলপাড়। দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে এক কর্মীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো পিংলা বিধানসভা কেন্দ্রের অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী প্রাক্তন বিধায়ক অজিত মাইতিকে। আজ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) ভোররাতে খড়গপুর লোকাল থানা এলাকার মাদপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন নিজের বাড়ি থেকে পিংলা থানার পুলিশ একটি গোপন ও আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। একসময় তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতির মতো শীর্ষ পদ সামলানো এবং বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজিত মাইতির এই নাটকীয় গ্রেফতারির ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রেফতারের পরপরই এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টার আগেই পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে ডেবরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজই তাঁকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করা হবে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, প্রবীণ এই নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি (Extortion) এবং আর্থিক প্রতারণার (Financial Fraud) সুনির্দিষ্ট জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গোবিন্দ দাস নামে জামনা অঞ্চলের এক তৃণমূল কর্মী গত ২৩ সেপ্টেম্বর পিংলা থানায় অজিত মাইতির বিরুদ্ধে একটি লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৬ সালে যখন তিনি অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন, তখন তাঁকে তৃণমূলের উচ্চপদস্থ ‘ব্লক সভাপতি’ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান অজিত মাইতি। সেই পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দফায় দফায় তাঁর কাছ থেকে মোট ১৫ লক্ষ টাকা আদায় করেছিলেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও গোবিন্দ বাবুকে কোনো পদ দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টে তাঁকে তীব্র হেনস্থা ও হুমকি দেওয়া হয়। এই সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই পুলিশ আজ ভোররাতে এই অ্যাকশন নেয়।

গ্রেফতারির পর মেদিনীপুর আদালতের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের সামনে সম্পূর্ণ বিস্ফোরক মন্তব্য করেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অজিত মাইতি দাবি করেন, “এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি হয়তো জেলে মারা যেতে পারি, আমাকে হয়তো মেরে ফেলাও হতে পারে, কিন্তু তবুও আমাদের এই আন্দোলন থামতে পারে না।” অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রাথমিক তদন্তের পরেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মেদিনীপুর জেলা আদালতের শুনানির পর পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাবে বলে জানা গেছে।

Exit mobile version