Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বাংলায় ‘অপারেশন রাইটার্স’: গেরুয়া ঝড়ে কি টলমল নবান্নের সিংহাসন? পরিসংখ্যান ও সমীকরণে বিজেপির আত্মবিশ্বাসের ময়নাতদন্ত!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহাযুদ্ধে কি তবে যবনিকা পড়তে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্যে? বাংলার আকাশ-বাতাসে এখন একটাই প্রশ্ন— ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ কি সময়ের অপেক্ষা? বুথ ফেরত সমীক্ষা থেকে শুরু করে জনসভার উপচে পড়া ভিড়— সব মিলিয়ে বিজেপি শিবিরে এখন উৎসবের মেজাজ। কিন্তু ঠিক কিসের ভিত্তিতে সরকার গড়ার ব্যাপারে এতটা নিশ্চিত নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহর সেনাপতিরা? এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গাণিতিক সমীকরণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির আত্মবিশ্বাসের প্রধান জ্বালানি হলো সাম্প্রতিক কিছু সমীক্ষার রিপোর্ট। বিশেষ করে ‘চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস’-এর মত সংস্থা যখন বিজেপিকে ১৫০-১৬০টি আসনের (ম্যাজিক ফিগার ১৪৮) পূর্বাভাস দিচ্ছে, তখন গেরুয়া শিবির তাকে ‘জনগণের রায়’ হিসেবেই দেখছে। গত বিধানসভায় ৭৭টি আসনে থমকে গেলেও, এবার তাদের লক্ষ্য ২০০ পার।বিজেপির অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে তাদের ভোট ব্যাংক প্রায় ৪৮ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনেও বেশ কিছু জেলায় তৃণমূলের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলেছিল তারা। উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে নিজেদের গড় ধরে রাখার পাশাপাশি এবার দক্ষিণবঙ্গের শহর ও মফস্বল এলাকায় পদ্ম ফোটানোই বিজেপির প্রধান তুরুপের তাস।

নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন কেলেঙ্কারি— একের পর এক ইস্যুতে জর্জরিত শাসক দল। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের নিচুতলার ‘সিন্ডিকেট রাজ’ সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এই ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ বা প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে ভোটবাক্সে রূপান্তর করতে মরিয়া গেরুয়া ব্রিগেড। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে কর্মসংস্থানের অভাবকে বিজেপি বড় হাতিয়ার করেছে।
অন্যদিকে বাংলার রাজনীতিতে বাম-কংগ্রেসের ক্ষয়িষ্ণু শক্তি পরোক্ষভাবে বিজেপিকেই সুবিধা করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনী লড়াই মূলত তৃণমূল বনাম বিজেপি-তে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিরোধী ভোটের বিভাজন কমছে। ফলে ‘একাই লড়ো’ নীতিতে হিন্দুত্বের আবেগের পাশাপাশি উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়ে মেরুকরণের রাজনীতিতে ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাগুলোতে উপচে পড়া ভিড় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মাইক্রো-লেভেল ম্যানেজমেন্ট বিজেপি কর্মীদের চাঙ্গা করে তুলেছে। “সোনার বাংলা” গড়ার প্রতিশ্রুতি আর কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর আশ্বাস— এই দুইয়ের মিশেলে এক নতুন রাজনৈতিক আখ্যান তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

তবে পথটা মসৃণ নয়। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মত জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা টপকানো বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রামীণ বাংলায় তৃণমূলের শক্ত সাংগঠনিক কাঠামো ভাঙা কতটা সম্ভব হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে নবান্নের ভবিষ্যৎ। কিন্তু পরিসংখ্যান যাই বলুক, বাংলার শেষ কথা বলে ‘ব্যালট বক্স’। বিজেপির এই আত্মবিশ্বাস কি কেবলই মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি সত্যিই বাংলায় ফুটতে চলেছে পদ্ম— তার উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত রাজনৈতিক পারদ যে তুঙ্গে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Exit mobile version