Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ঘরের মাঠে কি উলটপুরাণ? কাল সন্ধেয় কোন চাল চালছেন মমতা?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বাংলার রাজনীতির সব আলো এখন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে। আগামীকাল, রবিবার সন্ধে ৭টা নাগাদ চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্মিসভার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ নির্বাচনী প্রচার বলা হলেও, রাজনীতির কারবারিরা এর গভীরে অন্য সমীকরণ দেখছেন। প্রশ্ন উঠছে—ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে না হতেই কেন নিজের খাসতালুকে এত তড়িঘড়ি ময়দানে নামতে হচ্ছে নেত্রীকে? তবে কি ঘরের মাঠে মেগা প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী-র ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ঘাসফুল শিবির? একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের মাটিতে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। এবার লড়াই সরাসরি ভবানীপুরের পিচে। বিজেপি প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারী এমন একজন নেতা যিনি বুথ স্তরের সংগঠন এবং মাইক্রো ম্যানেজমেন্টে সিদ্ধহস্ত। সম্ভবত সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে প্রচারের শুরুতেই বুথ কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন। অহীন্দ্র মঞ্চের এই সভা আসলে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ নাকি নতুন কোনো ‘ডিফেন্সিভ’ রণকৌশল, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত কয়েক বছরে ভবানীপুর কেন্দ্রের জনবিন্যাস এবং মানুষের মেজাজে বড়সড় বদল এসেছে। বিশেষ করে অ-বাঙালি ভোটব্যাঙ্ক এবং যুব সমাজের একাংশের মধ্যে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি শাসক দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। খবর মিলছে, স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের কিছু কাউন্সিলর ও নেতার কাজে খোদ নেত্রী সন্তুষ্ট নন। তাই কালকের কর্মিসভা থেকে কর্মীদের কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি কোনো ‘গোপন টোটকা’ও দিতে পারেন তিনি। ঘরের মাঠে যাতে কোনোভাবেই ‘উলটপুরাণ’ না ঘটে, তার জন্য কাল থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামীকাল সন্ধের এই সভায় বাছা বাছা নেতৃত্ব ও সক্রিয় কর্মীদের ডাকা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। প্রকাশ্য জনসভার বদলে কেন এই ইনডোর কর্মিসভাকেই প্রচারের হাতিয়ার করা হলো?বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সরাসরি জনসভার চেয়ে কর্মীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে শুভেন্দুর ‘আক্রমণাত্মক’ জনসংযোগ রুখতে বিশেষ ছক কষাই এখন তৃণমূলের অগ্রাধিকার।

যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন প্রচার’ বলে দাবি করা হচ্ছে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বলছে অন্য কথা। শুভেন্দু অধিকারীর ‘হেভিওয়েট’ চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দুর্গ বাঁচাতে কতটা সফল হন, তার প্রথম ইঙ্গিত মিলবে কালকের অহীন্দ্র মঞ্চের সভা থেকেই। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের রায় কার পক্ষে যাবে, তা সময়ই বলবে। তবে কাল সন্ধে থেকেই যে বাংলার রাজনীতির পারদ কয়েক গুণ চড়তে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Exit mobile version