Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

গণনা কেন্দ্রের গেটে মমতা, এক্স হ্যান্ডেলে শুভেন্দুর তোপ! ভবানীপুরে কি তবে ‘খেলা’ ঘুরে গেল?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটতেই উত্তেজনার পারদ শিখরে পৌঁছেছে খাস কলকাতার ভবানীপুরে। গতরাতের (৩০ এপ্রিল) এক অভাবনীয় ঘটনাক্রম এখন রাজ্য রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয়। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে গণনা কেন্দ্রে হাজির হওয়া, আর অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা বিস্ফোরক পোস্ট—সব মিলিয়ে ভবানীপুরে এখন চরম স্নায়ুযুদ্ধ।

বৃহস্পতিবার রাত তখন প্রায় ১০ টা। মুষলধারে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ভবানীপুরের স্ট্রং রুম তথা গণনা কেন্দ্র ‘সখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল’-এর সামনে এসে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, স্ট্রং রুমের সিসিটিভি ফুটেজে তিনি কিছু ‘অস্বাভাবিক গতিবিধি’ লক্ষ্য করেছেন এবং ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “ইভিএম পাহাড়া দিতেই আমি এখানে এসেছি, কারণ কমিশনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা নেই।” তাঁর এই আকস্মিক সফর ঘিরে এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই আসরে নামেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। গভীর রাতে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে লেখেন— “কোনও বাড়তি সুবিধা নেওয়া থেকে ভবানীপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। যতই চেষ্টা চালান না কেন, কোনওরকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ তিনি করতে পারেননি। ভবানীরপুর-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের ভোটারমণ্ডলীকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই।” শুভেন্দুর এই পোস্টের রাজনৈতিক অর্থ অত্যন্ত গভীর। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে গণনা কেন্দ্রে গিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় তিনি কোনো ‘বাড়তি সুবিধা’ আদায় করতে পারেননি।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্ট ছাড়া স্ট্রং রুমের বারান্দায় কারোরই প্রবেশাধিকার নেই। আগামী ৪ মে (সোমবার) নির্ধারিত হবে ভবানীপুরের ভাগ্য। লড়াই সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১-এর নন্দীগ্রামের হারের স্মৃতি এখনও টাটকা। এবার নিজের খাসতালুক ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই ইভিএম পাহাড়া দেওয়া আসলে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই।

অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর দাবি—প্রশাসন নয়, এবার শেষ কথা বলছে ‘জনতা’ এবং ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী’। ৪ মে-র আগে ভবানীপুরের এই ‘শব্দ-যুদ্ধ’ এবং ‘স্ট্রং রুম-পাহাড়া’ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, এবার ফল যাই হোক না কেন, তা হবে ঐতিহাসিক।

Exit mobile version