Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

গণতন্ত্রের জয়গান না কি তৃণমূলি দাদাগিরি? বহরমপুরে অধীরকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বাংলার রাজনৈতিক ময়দান তপ্ত হতে শুরু করেছে। কিন্তু প্রচারের শুরুতেই কি বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে? শনিবার সকালে বহরমপুরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে যে নজিরবিহীন অশান্তি দেখা গেল, তাতে ফের একবার রাজ্যের শাসকদলের ‘গণতান্ত্রিক অসহিষ্ণুতা’ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। বহরমপুর বিধাসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর প্রচারকে কেন্দ্র করে এদিন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে মিছিলে বাধা দেয় এবং ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান তুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।

এদিন সকালে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বহরমপুর শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ করতে বেরিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিলটি ওয়ার্ডে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকারের নেতৃত্বে একদল লোক রাস্তা আটকে দাঁড়ায়। অধীরবাবুকে লক্ষ্য করে একের পর এক ‘গো-ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলা হতে থাকে। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে দু-পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও ধাক্কাধাক্কি। পুলিশ কোনোক্রমে পরিস্থিতি সামাল দিলেও গোটা এলাকা থমথমে হয়ে পড়ে।

ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন অধীর চৌধুরী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, “তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে আমাদের প্রচারে বাধার সৃষ্টি করছে। মানুষ যাতে আমাদের কথা শুনতে না পারে, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ।” অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার। তাঁর দাবি, অধীর চৌধুরী বাইরে থেকে দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন এবং স্থানীয় মানুষই তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার ভয়েই কি শাসকদল এখন বিরোধীদের সভা ও মিছিলে বাধা দিচ্ছে? উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতেও বহরমপুরের আব্দুস সামাদ রোডে এক অসুস্থ নেতাকে দেখতে গিয়ে তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন অধীরবাবু। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব রীতিমত ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে জানিয়েছে যে, অধীর চৌধুরী ওই এলাকায় গেলেই তাঁরা ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেবেন। একজন প্রার্থীর গতিবিধির ওপর এই ধরণের বিধিনিষেধ জারি করা কতটা সমীচীন, তা নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন বিরোধী পক্ষ।

ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেও যদি শাসকদলের এই ধরণের ‘দাদাগিরি’ চলতে থাকে, তবে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বহরমপুরের এই সংঘাত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, এবারের ভোটযুদ্ধ মোটেও সহজ হবে না। শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই ‘ইগোর লড়াই’ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার করার অধিকার কি বাংলায় সত্যিই আজ বিপন্ন?

Exit mobile version