Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

গণতন্ত্রের ওপর জেহাদ? মালদহে বিচারকদের ওপর নারকীয় তাণ্ডবের পর দিল্লির ‘সুপার’ অ্যাকশন!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আইন কি তবে গুন্ডাদের হাতের খেলনা? মালদহের মোথাবাড়ি আর কালিয়াচকের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নই আজ গোটা দেশকে ভাবিয়ে তুলছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অজুহাত তুলে যেভাবে একদল উন্মত্ত জনতা আমাদের দেশের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ৯ ঘণ্টা ধরে ‘বন্দি’ করে রাখল, তা কেবল অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর এক সরাসরি আঘাত। কিন্তু এবার সময় এসেছে হিসেব চোকানোর। দিল্লির অলিন্দ থেকে নেমে এল এমন এক নির্দেশ, যাতে রাতের ঘুম উড়েছে মালদহের সেই তথাকথিত ‘নেতা’ আর তাদের পোষা তাণ্ডবকারীদের।

গত বুধবার কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকে যা ঘটেছে, তা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। ভোটার তালিকায় নাম সংশোধনের কাজ করতে যাওয়া ৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে (যাঁদের মধ্যে ৩ জন মহিলা ছিলেন) ঘিরে ধরে চলে অকথ্য গালাগালি আর হেনস্থা। দেশের শীর্ষ আদালত এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে ব্যাখ্যা করেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ ভোটব্যাঙ্ককে উস্কানি দিয়ে এবং প্রশাসনিক মদতে এই নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যাতে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা না যায়।

প্রশাসনের একাংশের ‘মৌন সমর্থন’ আর পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ দেখে আর চুপ করে বসে থাকল না নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের কড়া ধমকের পরেই কমিশন জানিয়ে দিল—রাজ্য পুলিশের ওপর আর কোনো ভরসা নেই। এই ঘটনার জাল কতটা গভীরে, তা খুঁজে বের করতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিবিআই (CBI)-এর হাতে। শোনা যাচ্ছে, প্রয়োজনে এনআইএ (NIA)-ও এই মামলার তদন্তে নামতে পারে, কারণ এর পিছনে বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্র বা দেশবিরোধী শক্তির হাত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে মৃত বা ভুয়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার এই প্রক্রিয়া (SIR) আসলে রাজ্যের ‘ভোট-মেশিনারি’র ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। আর সেই কারণেই কি সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই তাণ্ডব? বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পুলিশ যদি সক্রিয় হতো, তবে সাতজন বিচারককে এভাবে অসহায় অবস্থায় থাকতে হতো না। কেন্দ্রের এই সুপার অ্যাকশন আসলে সেই বার্তাই দিচ্ছে যে—বাংলায় ‘জঙ্গলরাজ’ চালিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না।

ইতিমধ্যেই ১৮ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ কারা? কাদের অঙ্গুলিহেলনে ওইদিন কালিয়াচক রণক্ষেত্র হয়েছিল? সিবিআই যখন এই মামলার ফাইল খুলবে, তখন মালদহের অনেক রাঘববোয়ালের নামই যে প্রকাশ্যে আসবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থান আর অন্যদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রবেশ—সব মিলিয়ে মালদহের রাজনীতির হাওয়া এখন আমূল বদলে যাওয়ার পথে।

Exit mobile version