Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূলের শেষ দুর্গ: বিজেপির মহাজয়ের ধাক্কায় শিলিগুড়ির মেয়র পদ ছাড়লেন গৌতম দেব!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এবার তৃণমূলের হাতছাড়া হলো উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল তৃণমূলের পুরবোর্ডগুলো। অবশেষে সেই প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের (SMC) মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন প্রবীণ নেতা গৌতম দেব। আজ, শুক্রবার সকালে পুর কমিশনারের কাছে তিনি তাঁর আনুষ্ঠানিক ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের শোচনীয় ভরাডুবির পর নৈতিকভাবে মেয়র পদে টিকে থাকা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। খোদ গৌতম দেবও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, শিলিগুড়ির মানুষ পুরোপুরি বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছে। ফলে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গণরোষ ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার মুখে পড়ে মেয়র পদ আঁকড়ে থাকা যে আর সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট হয়ে গেল। পদত্যাগের চিঠি জমা দেওয়ার সাথে সাথেই তাঁর ভিআইপি তকমা শেষ। তড়িঘড়ি পুরনিগমের গাড়ি এবং নিরাপত্তা রক্ষীসহ সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শিলিগুড়ি পুরসভার বর্তমান বোর্ডের আইনি মেয়াদ ছিল। কিন্তু রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের উত্থানের ধাক্কায় মেয়াদ ফুরনোর প্রায় এক বছর আগেই ক্ষমতাচ্যুত হতে হলো তৃণমূলকে।

মেয়র পদ খোয়ানোর ঠিক দুই দিন আগে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তড়িঘড়ি তাঁকে দার্জিলিং জেলা কমিটির (সমতল) চেয়ারম্যান পদে বসিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করে উত্তরবঙ্গে ডুবন্ত সংগঠনকে কোনোমতে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা।শিলিগুড়ি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই ডমিনো ইফেক্টের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূলের পুরবোর্ডগুলো। ইতিমধ্যেই বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ এবং আলিপুরদুয়ার পুরসভার পুরপ্রধানরাও এক এক করে পদ ছাড়ছেন। উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের যেটুকু রাজনৈতিক প্রশাসনিক অস্তিত্ব অবশিষ্ট ছিল, গৌতম দেবের এই ইস্তফার পর তাও পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version