প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় আর চলবে না কাটমানি, তোলাবাজি কিংবা চাকরি চুরির প্রাতিষ্ঠানিক খেলা। ২০২৬ সালের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আজ বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশনে উদ্বোধনী ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যপাল আরএন রবি স্পষ্ট করে দিলেন, নতুন বিজেপি সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হলো দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন। বিগত জমানায় রাজ্যজুড়ে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তা চিরতরে বন্ধ করতে নতুন সরকার বদ্ধপরিকর।রাজ্যপালের এই কড়া বার্তা প্রমাণ করে, বাংলায় এবার শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন হয়নি, প্রশাসনিক ব্যবস্থারও আমূল সংস্কার হতে চলেছে।
ভাষণে সরাসরি নাম না নিলেও, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের একাধিক বহুচর্চিত কেলেঙ্কারি এবং দুর্নীতির আবহের দিকেই ছিল রাজ্যপালের পরোক্ষ ইঙ্গিত। স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) থেকে শুরু করে পুরসভা নিয়োগ— বিগত জমানায় মেধার অবমাননা করে যেভাবে টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠেছিল এবং যার জেরে আদালতের নির্দেশে একাধিক হেভিওয়েটকে শ্রীঘরে যেতে হয়েছে, সেই কালো অধ্যায়কে চিরতরে বন্ধ করার ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বহু মূল্যবান সরকারি জমি বেআইনিভাবে দখল করে সিন্ডিকেট রাজ চালানোর যে অভিযোগ এতদিন উঠত, তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। রাজ্যপাল জানান, অব্যবহৃত বা বেদখল হওয়া সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করে সেখানে কর্মসংস্থানের জন্য শিল্প গড়ে তোলা হবে।
রাজ্যপাল তাঁর বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দুর্নীতিবাজদের কোনো রেয়াত করা হবে না। স্বচ্ছতা ফেরাতে মূলত এই তিনটি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বালি পাচার, কয়লা পাচার কিংবা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করতে পুলিশ ও টাস্ক ফোর্সকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিষেবা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো রকম মানুষের হাত না থাকে, তার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনা হবে সব স্তরে। চাকরি প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ দূর করতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত ও সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে টেট পরীক্ষা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যপালের এই ভাষণ আসলে বাংলায় বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ‘কাটমানি সংস্কৃতির’ ওপর এক বড় আঘাত। যে রাজ্যকে নিয়োগ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের চারণভূমি বানিয়ে ফেলা হয়েছিল, সেখানে নতুন বিজেপি সরকার কীভাবে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনে, সেটাই এখন দেখার। বাংলার আমজনতাও রাজ্যপালের এই ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন।
